গোলাম কিবরিয়াঃ লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৬ সালে ৭ টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কেটিং বিভাগ। এরই মাঝে ৬ টি ব্যাচ এই বিভাগ থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করে দেশের সেবায় বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগেরই একটি সংগঠন ক্যাফে মার্কেটিং। একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে তরুণ মার্কেটার সৃষ্টি ও মেধাবিকাশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠনটি। যাতে করে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্যরুপে গড়ে তুলতে পারে। এছাড়াও বিভাগের ১ম ব্যাচ থেকে ১২তম ব্যাচ পর্যন্ত সকল ছাত্র-ছাত্রী যেন একই বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারে তারই ব্যবস্থা করেছে ক্যাফে মার্কেটিং।

বিভাগটির ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী অামান বলেন “নবীনদের থেকে সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং শিক্ষকদের নানা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার উপযুক্ত প্লাটফর্ম হচ্ছে “ক্যাফে মার্কেটিং।”

একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে আরো দক্ষ হতে পারে সে জন্য ক্যাফে মার্কেটিং বিভিন্ন ধরণের ওয়ার্কশপ, সেমিনার, বির্তক প্রতিযোগিতা, বিজনেস টক, কালচারাল প্রোগ্রাম, মার্কেটিং প্রিমিয়ার লীগ,ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর, স্ট্যাডি ট্যুর,কেইজ স্ট্যাডি কম্পিটিশন,প্রেজেন্টেশন কম্পিটিশন, লগো কম্পিটিশন, ফ্রেসার রিসেপশন এন্ড ফেয়ার ওয়েল, রিইউনিয়ন,নিউ অাইডিয়া জেনারেশন কন্টেস্ট সহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের অায়োজন করে থাকে।

“মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “শিক্ষার বিকাশ শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবেনা। সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকাশ করার জন্যই মূলত ক্যাফে মার্কেটিং কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা লেংগুয়েজ ক্লাব চালু করেছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার জন্য অামরা ক্যাফে মার্কেটিং থেকে শিক্ষার্থীদের সহয়তা করে থাকি।”

ক্যাফে মার্কেটিং সম্পর্কে বিভাগটির ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী অাহসান হাবিব বলেন, “ক্যাফে মার্কেটিং একটি ক্লাব হিসেবেই আমাদের কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচিত। তবে এর সাথে আমাদের অনুভূতিও জড়িত। সকল স্বেচ্ছাসেবামূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। আমি সংগঠনটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। বিভাগ সম্পর্কে ও বিভাগের ছোট -বড় সবার সম্পর্কেই এখান থেকে জানতে পারি। ক্যাফে মার্কেটিং এর প্রতি আমাদের প্রত্যাশা বলতে গেলে, একে আমি শুধু কুবির গন্ডির মধ্যেই দেখতে চাই না। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও এর স্বীকৃতি চাই।” আহসান হাবিব বর্তমানে বাংলাদেশ চা বোর্ডের বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

কিছুদিন আগে নিজস্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীদের অাত্নরক্ষার জন্য ফায়ার সেইফটি মহড়া অায়োজন করেছে ক্যাফে মার্কেটিং। এতে করে শিক্ষার্থীরা দূর্যোগকালীন প্রতিরোধ কিভাবে করবে সে বিষয়ে সচেতন হতে পেরেছে।

বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি মনোনিবেশ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট অায়োজন করে থাকে ক্যাফে মার্কেটিং। অান্ত-বিভাগীয় ক্রিকেট,ফুটবল, ভলিবল সহ খেলাধুলায় বেশ কিছু ইভেন্টের আয়োজন করে সংগঠনটি।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশে ক্যাফে মার্কেটিংএর পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা ধরনের কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে মার্কেটিং বিভাগের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রলয় চক্রবর্তীর কনসার্ট ফর প্রলয় অায়োজন করেছে সংগঠনটি।

অার্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করে থাকে ক্যাফে মার্কেটিং। এছাড়াও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্যাফে মার্কেটিং এর পক্ষ থেকে স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ অামজাদ হোসেন সরকার ক্যাফে মার্কেটিং প্রসঙ্গে বলেন, “ক্যাফে মার্কেটিং কয়েকটি ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে থাকে। ভবিষ্যতে অামরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্ল্ডের সফল ব্যাক্তিদের নিয়ে সেমিনার করব। এতে শিক্ষার্থীরা বিজনেস ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে অারো সচেতন হতে পারবে।”