ডেস্ক রিপোর্টঃ কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদি শিল্প।এরপরও এই শিল্পটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কুমিল্লার গুটিকয়েক তাঁতী।

এক সময় জেলার চান্দিনা, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শোনা যেত খাদির তাঁতের খট খট শব্দ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁতীরা ব্যস্ত থাকতো খাদি কাপড় বোনায়। পূঁজি, সুতার অভাব ও প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় দিন দিন কমছে তাঁতের সংখ্যা।

বৃটিশ ভারতে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সময়কালে ঐতিহাসিক কারণে কুমিল্লা অঞ্চলে খাদি শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। জনশ্রুতি আছে ১৮ শতকের শুরুর দিকে কুমিল্লার গরীব মানুষের কাপড়ের চাহিদা মেটাতে নিজেরাই চরকা দিয়ে তুলা থেকে সুতা কেটে খাদি কাপড় তৈরি করতো। পরবর্তীতে খাদি কাপড় দেশ ও বিদেশে জনপ্রিয় হতে থাকে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা মেডিক্যালে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

বর্তমানে চান্দিনা ও দেবিদ্বার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাত্র ৮/১০টি তাঁত। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে না পেরে তাঁতীদের অনেকেই বাপ দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁতী ও খাদি ব্যবসায়ীরা। তা না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি।

খাদি বোর্ড বা এসোসিয়েশন করে খাদি শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারে বলে অভিমত খাদি কারিগরদের।

খাদি সংগঠক প্রদীপ কুমার রাহা কান্তি জানান, কারিগরদের প্রশিক্ষণ এবং খাদির প্রসারে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে খাদির প্রদর্শনী করা যেতে পারে। এতে বিদেশী ব্যবসায়ীরা খাদি কাপড় ক্রয়ে আরও আগ্রহী হবে বলে ধারণা এই খাদি সংগঠকের।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ