শিগগিরই আলোর মুখ দেখছে শচীন দেব বর্মণের বাড়ি, রাণীর কুটি, সতের রত্ন মন্দির ও রাণী ময়নাতির বাংলো। এখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর টিকেট চালু করবে। এতে প্রাচীন স্থাপনা গুলো সংরক্ষণ হবে। মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্র তৈরি হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান।

কুমিল্লা জেলার ইতিহাস গ্রন্থের সূত্রমতে, উপমহাদেশের কালজয়ী সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণ ১৯০৫ সালের পহেলা অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি চলে যান কলকাতায়। ১৯৪৪ সালে তিনি সপরিবারে মুম্বাই চলে যান। মুম্বাই চলচ্চিত্র জগতে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকের মর্যাদা লাভ করেন। ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত করেন। শচীন দেব বর্মণ ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবরে মারা যান।

সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐতিহ্য কুমিল্লার পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, অনেক আন্দোলন আর লেখালেখির পর শচীন দেব বর্মণের বাড়িটি ২০১৭ সালে সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। বাড়িটির পাহারাদার না থাকায় তা পরিত্যক্ত বাড়িতে পরিণত হচ্ছে।

নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এটিতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। শচীন দেব বর্মণের বাড়িটি এখন অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। এখানে দ্রুত কার্যক্রম চালুর দাবি করছি।

এদিকে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ে ত্রিপুরা রাজ বংশের নির্মিত বিশ্রামাগার রাণীর কুঠি। ঐতিহাসিক রাণীর কুঠিটি বর্তমানে ধ্বংসের পথে রয়েছে। চালার টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। দরজা জানালা ভেঙ্গে পড়ছে। এটা অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়িতে পরিণত হয়েছে। বাড়িটি সংস্কার করে এখানে একটি ইতিহাস ভিত্তিক জাদুঘর করা যেতে পারে।

প্রবীণ সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ১৯ শতকের প্রথম দিকে রাণীর কুঠি নির্মিত হয়। এখানে নগর জাদুঘর করার জন্য স্থানীয় সুধীজন দাবি জানিয়ে আসছেন। ভবনটি সংস্কার করে এখানে নগর জাদুঘর স্থাপন করা যেতে।

গবেষক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক বলেন,রাণীর কুটি ত্রিপুরার রাজদরবারের শাসকরা নির্মাণ করেছেন। তবে এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠার সাল গবেষণার বিষয়। এর নির্মাণ কৌশল দেখে তা শতাধিক বছরের প্রাচীন বলে ধারণা করা যায়। এখানে ইতিহাস ভিত্তিক একটি জাদুর স্থাপন করা যেতে পারে। কুমিল্লার মানুষ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। এতে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস স্থান পেতে পারে।

অপরদিকে সতের রত্ন মন্দির কুমিল্লা নগরী সংলগ্ন খামার কৃষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত। কারো মতে সতেরটি রত্ন এটিতে স্থান পাওয়ায় নাম দেয়া হয় সতের রত্ন মন্দির। কেউ মনে করেন, ১৭টি চূড়ার কারণে এর নাম দেয়া হয় সতের রত্ন মন্দির। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি তীর্থ স্থান হিসিবে বিবেচিত।

৪০০ বছরের প্রাচীন মন্দিরটি দেখতে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছে সেখানে। এছাড়া রাণী ময়নামতি প্রাসাদ ও মন্দির কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সাহেবের বাজার এলাকায় অবস্থিত। ১৯৮৮ সালের নাগাদ এর খনন কাজ শুরু হয়। খননের করার সময় এখানে বেশ কিছু পোড়ামাটির ফলক এবং অলংকৃত ইট আবিষ্কৃত হয়েছে।বিশ্লেষকরা ধারণা এই প্রাসাদটি অষ্টম থেকে ১২শ’ শতকের প্রাচীন কীর্তি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, করোনার কারণে আমরা পিছিয়ে গেছি। শচীন দেব বর্মণের বাড়ি, রাণীর কুটি, সতের রত্ন মন্দির ও রাণী ময়নাতির বাংলোতে আমরা দ্রুত টিকেট চালু করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: