ঢোল-তবলা আর গান-বাজনার মধ্যদিয়ে শুরু হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। পরে কাবিননামায় বর-কনের পরিচর্যাকারীদের স্বাক্ষর, গাছে-গাছে মালা বদল, সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ ও পারস্পরিক মিষ্টিমুখ করার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয় গাছের সঙ্গে গাছে বিয়ে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে আম গাছের সাথে বিয়ে হলো আমড়া গাছের। আবার কাঠাল গাছের বিয়ে হলো পেয়ারা গাছের সাথে। বর ও কনেরপক্ষে স্বাক্ষর দিয়েই বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের কাজী ছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষপ্রেম জাগরণের লক্ষ্যে টিফিনের টাকায় ১ লক্ষ গাছের চারা বিতরণ ও গাছে গাছে বিয়ের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘ।

বৃহস্পতিবার সকালে কালী বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গাছে-গাছে বিয়ে অনুষ্ঠানের পর শিক্ষার্থীদের মাঝে সহস্রাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়। লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহজালাল, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রৌশন আলম চৌধুরী, গলিয়ারা দক্ষিন ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘের ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, গাছ আমাদের পরম বন্ধু। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনে গাছ রোপণের বিকল্প নেই। আমি আশা করি, লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যরাও সবুজায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করবে ও গাছের যত্ন নেবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম বলেন, মানুষের প্রতি মানুষের সম্পর্ক বাড়াতেই এমন ভিন্নরকম উদ্যোগ নেয়া। গাছে গাছে বিয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যরকম আত্মীয়তা হলো। আগামী তিন মাসে সারাদেশে টিফিনের টাকায় ১ লাখ গাছের চারা বিতরণ করা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: