কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থাকা একটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার দেবিদ্বারে উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায়।

শুক্রবার (৪ জুন) বিকেলে সেখানে গিয়ে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্পের ওই উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেন তিনি। তবে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে শনিবার (৫ জুন)। এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রোশন আলী মাস্টার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে বাঁধা প্রদান করতে পারেন? শুক্রবার তিনি ফুলের মালা গলায় দিয়ে এবং বিএনপির বেশ কিছু বিতর্কিত নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজে বাঁধা প্রদান করেছেন। ঘটনাস্থলে এসে তিনি বলেছেন- কোনভাবেই ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। তার বাঁধার কারণে ওই প্রকল্পের কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। এনিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তার কাছ থেকে এমন বাঁধা আসা আমাদের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কবির হোসেন বলেন, এলাকার গৃহহীন অসহায় মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতায় মাথা গোঁজার ঠাই পাবে, সেজন্য এলাকাবাসী এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আর তিনি (রোশন আলী মাস্টার) আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে এ প্রকল্পের কাজে বাঁধা প্রদান করেছেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা।

এদিকে, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার এ প্রসঙ্গে ভিন্ন দাবি করেছেন।

রোশন আলীর দাবি, ওই প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতার অনেক ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম-দুর্নীতি করতে পারেন বলেও তার কাছে তথ্য রয়েছে। এর আগেও নানা প্রকল্পে চেয়ারম্যান ও তার ভাই অনেক দুর্নীতি করেছে। এছাড়া যেখানে প্রকল্প হচ্ছে, সেই স্থানটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের একটি প্রাচীন খেলার মাঠ। সরকারের এই বিশেষ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যই তিনি সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন।

রোশন আলী আরও দাবি করেন, যেখানে প্রকল্প হচ্ছে তাঁর আশপাশে অনেক খাস জায়গা রয়েছে। যেগুলো অসাধু সিন্ডিকেটের দখলে রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো উদ্ধার করে আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক। এতে প্রয়োজন হলে তারাও আর্থিক সহযোগিতা করবেন। কিন্তু এলাকার প্রাচীন একটা খেলার মাঠ বেদখল করে কেন এই প্রকল্প হবে?

তবে আওয়ামী লীগ নেতা রোশন আলীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজামেহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.জাহাঙ্গীর আলম। চেয়ারম্যানের দাবি, রোশন আলীর এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈয়দপুর এলাকায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীনদের জন্য ৭৬ শতাংশ খাস জমি বরাদ্ধ দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যে সরকারের ১নম্বর খাস খতিয়ানে থাকা এ জমিতে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করার কাজ শুরু করা হয়। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে সার্ভে করে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে প্রকল্পের নকশা এবং পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। পরে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগ। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেন আওয়ামী লীগ নেতা রোশন আলী মাস্টার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান বলেন, সৈয়দপুর এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের জন্য মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। আমরা জানতে পেরেছি, শুক্রবার বিকেলে কে বা কাহারা এসে ওই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ barta24

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: