ডেস্ক রিপোর্টঃ দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় ইউনিয়ন কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ এনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগ। যদিও অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

আজ রোববার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগ। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’-এর কর্মীদের নিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কিছু চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসীদের’ দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল প্রথম আলোকে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এসব ‘ভুয়া’ অভিযোগ আনা হচ্ছে। একজন ব্যক্তির জনপ্রিয়তা না থাকলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে কেউ নির্বাচিত হয়? সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারাও আওয়ামী লীগের কর্মী। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এ কে এম শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বুধবার বিকেলে উপজেলার বাগুর গ্রামের লিটন সরকার ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা যাদব রায়সহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল উপজেলার বরকামতা ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলা করার পর বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। এই হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। হামলায় কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মাহবুব আলম এবং বরকামতা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য বাচন মিয়া গুরুতর আহত হন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ‘প্রশাসনের সহযোগিতায়’ ছাত্রলীগ নেতা যাদব রায়ের মা বাদী হয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মাসুদ রানাসহ আটজনের বিরুদ্ধের মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ মাসুদ রানা ও অপর একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। হামলার ঘটনায় আহত বাচন মিয়ার স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও দেবীদ্বার থানা এখন পর্যন্ত অভিযোগটি অন্তর্ভুক্ত করেনি।

বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব কি না, তা ছাড়া এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানানো হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ বি এম গোলাম মোস্তফা বলেন, বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব নয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রায় সব পর্যায়ের নেতারা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন। আর বিষয়টি কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগকে জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে লিটন সরকারকে ‘কুখ্যাত মাদক সম্রাট’ হিসেবে চিহ্নিত করে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। লিটন সরকার কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হলেও তাঁর পরিচয়টি বলেননি উপজেলার নেতারা। পরে এক প্রশ্নের জবাবে এক নেতা বলেন, লিটন সরকার আগে ছিলেন না। ‘সিস্টেমে’ ওই কমিটিতে ঢুকেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিটনকে আমি চিনি। তিনি আমার সঙ্গে রাজনীতি করেন। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে এলাকায় সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। তিনি আমার সঙ্গে রাজনীতি করেন, এ জন্য এখন মাদক সম্রাট-ক্যাডার ইত্যাদি অভিযোগ আনা হচ্ছে। কারও কাছে যদি এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে দেখাক। আর যেটাকে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কার্যালয় বলা হচ্ছে, সেটা আসলে মাদক সেবনের আখড়া।’

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সহসভাপতি হুমায়ুন মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, দেবীদ্বার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম, বরকামতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: