নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গ্রাম্য অপ্রশিক্ষিত দাইয়ের খপ্পরে পড়ে অপচিকিৎসার শিকার লহ্মীপুরের রামগঞ্জের অসহায় শিরিন আক্তার অনেকটা জীবন মৃত্যু সন্ধিক্ষনে উপনিত হয়। অপ্রশিক্ষিত দাই অক্সিটোসিন স্যালাইন (ডেলিভারি করানোর ঔষধ) প্রয়োগ করেন কিন্তু ডেলিভারির পর শিরিন আক্তারের প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে লক্ষীপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা করে দেখেন যে রোগীর মাসিক এর রাস্তা এবড়ো থেবড়ো ভাবে ছিরে গেছে এবং বাচ্চা ডেলিভারির সময় এবং সেই ক্ষতস্থানটি সেলাই করা হয়।এতে রোগীর জীবন আরো সংকটময় হয়ে উঠে। অবশেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এসে চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় এই অসহায় রোগীর জীবন রক্ষা পায়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসকদের একটি টিম সফল অপারেশনের মাধ্যেমে জরায়ু অপসারন করে শংকামুক্ত করেন। আর এই প্রসূতি মায়ের জীবন বাঁচাতে আবারো সর্বপ্রথম রক্ত দিয়েছন কুমেকের ডাক্তাররা।

শনিবার সন্ধ্যায় কুমেক হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান ডাঃ করুনা রানী কর্মকার জানান, শিরিন আক্তার এখন আশংকামুক্ত। তার সু চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গাইনী বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা চালাচ্ছেন।

জানা যায়, ১৭ এপ্রিল লহ্মীপুরের রামগঞ্জের ছাদিকুল ইসলামের স্ত্রী শিরিণ আক্তারকে হাসপাতালের গাইনী বিভাগে ভর্তির ৪ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন পড়বে বলে স্বজনদের জানানো হয়। এর আগে ওই দিন সকালে শিরিন আক্তারকে তার গ্রামের বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত দাই দিয়ে ডেলিভারি করিয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। কুমেক হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান ডাঃ করুনা রানী কর্মকার জানান, শিরিন আক্তারের ডেলিভারি করানোর জন্য অপ্রশিক্ষিত দাই অক্সিটোসিন স্যালাইন (ডেলিভারি করানোর ঔষধ) প্রয়োগ করেন কিন্তু ডেলিভারির পর শিরিন আক্তারের প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে লক্ষীপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা করে দেখেন যে রোগীর মাসিক এর রাস্তা এবড়ো থেবড়ো ভাবে ছিরে গেছে এবং বাচ্চা ডেলিভারির সময় এবং সেই ক্ষতস্থানটি সেলাই করা হয়। লক্ষীপুরের ওই ক্লিনিকে কিন্তু তারপর ও রোগীর অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। সেখানকার ডাক্তার রোগীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করেন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীকে আনা হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এ মুমুর্ষু অবস্থায় ডেলিভারির পর থেকে ঐ সময় পর্যন্ত রোগীকে এক ব্যাগ রক্ত ও দেয়া হয়নি রোগীর লোকজন তখন ও পর্যন্ত কোন রক্ত যোগাড় করতে পারেননি। এদিকে রক্তের অভাবে রোগীর অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে থাকে। রক্তের অভাবে রোগীর গায়ের বর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। সাথে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। এই অবস্থার রক্ত ছাড়া রোগীর জীবন বাঁচানো প্রায় অসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। গাইনি ওয়ার্ডের কর্তব্যরত ডাক্তারগণ রোগীকে পরীক্ষা করে দেখেন যে রোগীর জরায়ু ফেটে পেটের ভিতরে রক্তক্ষরণ চলছে। তৎক্ষণাৎ গাইণি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আমার সাথে পরামর্শ করে অপারেশন করার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এ সময় তৎক্ষণাৎ অপারেশন ছাড়া রোগীকে বাঁচানোর ভিন্ন কোন উপায় ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে অপারেশন করেন গাইনী ইউনিট-১ এর কর্তব্যরত ডাক্তার ডাঃ নাসরিন আকতার পপি,ডাঃ জানিবুল হক,ডাঃ আয়েশা,ডাঃ ফারহানা। ওই রোগীর জন্য ৪ ব্যাগ রক্ত দরকার হলে ইন্টার্ন ডাক্তার ডা.আদনান চৌধুরীর উদ্যোগে অপারেশন করেন ডা.আয়েশা, ডা.ফারহানা, ডা.নওশিন রক্তের ব্যবস্থা করেন। এ বিষয়ে ওই রোগির স্বামী ছাদিকুল ইসলাম জানান, ডাক্তাররা রক্ত দেয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান করুনা রানী কর্মকার এবং অন্যান্য ডাক্তাররা আন্তরিকতার সাথে আমার মৃত্যু পথযাত্রী স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেতো না। তিনি সকল ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

এর আগে ওই হাসপাতালের একই বিভাগে জেলার চান্দিনা শ্রীমন্তপুর গ্রামের বর্গাচাষী সুলতান আহমেদের স্ত্রী সেলিনা আক্তারকে (৩৫) নামের এক অসহায় মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের গাইনী বিভাগের ইন্টার্নি চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক ও ডা. আপন সাহা তাদের রক্ত প্রদান করে জীবন রক্ষা করেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: