নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) বলেছেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর কাজ শেষ হয়ে যায়নি, তাদের কাজ সবসময় চলমান থাকবে। আজ তারা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতেও নানাভাবে অবদান রেখে যাচ্ছেন। আমাদেরে কঠিন কঠিন কাজগুলো, শক্তিশালী যে সব কাজ যা আমাদের অর্থনীতির গতিবেগ এবং উন্নয়নের গতি বাড়াবে সে কাজগুলো বেছে বেছে আমরা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিচ্ছি একটি বিশ্বাসে, যে তারা যে কাজগুলো করবেন সেগুলো তারা ভালোভাবে করবেন। তাদের উপর আমাদের যে বিশ্বাস, যে আস্থা সেটিকে আমরা কাজে লাগাচ্ছি।”

তিনি বলেন, সেই সফলতা থেকে আমরা মনে করি সেনাবাহিনী দেশকে পিছিয়ে যেতে দেবেনা। দেশকে শুধু বহিঃশত্রুমুক্ত রাখাই নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও সেনাবাহিনী কাজ করতে পারে এবং করে যাচ্ছে।”
সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এ সব কথা বলেন। কুমিল্লা সেনানিবাসের শহীদ এমআর চৌধুরী গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সেনানিবাসের এরিয়া কমান্ডার ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো: রাশেদ আমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল  লোটাস কামাল, সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলাম এমপি, সংসদ সদস্য ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, সংসদ সদস্য ফজিলতেন্নেসা বাপ্পি, সংসদ সদস্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন, ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো: রাশেদ আমিন, কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউল আহমেদ বাবুলসহ বিভিন্ন জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কেক কাটেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সম্পাদক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি স্মৃতিচারণ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লোটাস কামাল বলেন, ২০১১ সালে একটি সুযোগ হয়েছিলো বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের। সেসময় আমি দেখেছিলাম যে মিরপুর ছিল একটি সংকুচিত এলাকা, সেখানে রাস্তাঘাট ছিল অপ্রতুল এবং এগুলোর প্রায় বেশিরভাগ দখল করে ফেলেছিলো  স্থানীয় অবৈধ দখলবাজরা। এসময় আইসিসির প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে বললেন যে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব হবে না, কারণ ছিল সেখানকার অতিরিক্ত ঘনবসতি, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বের হবার কোন পথ নেই। জাতি তখন প্রস্তুত ছিল বিশ্বকাপ আয়োজনের। জাতির সামনে যে সুন্দর একটি স্বপ্ন ছিল তার মধ্যে আমি একটি অশনি সংকেত দেখলাম। আমি ছুটে গেলাম সেনাবাহিনীর কাছে। সেদিন তাদের ইঞ্জিনিয়ার কোরকে ব্যবহার করে আমি সফল হয়েছিলাম বিশ্বকাপ আয়োজনের।”

কুমিল্লা সেনানিবাসের এরিয়া কমান্ডার ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো: রাশেদ আমিন বলেছেন, আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সূচিত বাংলা জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলন, ক্রমান্বয়ে ৬ দফা আন্দোলন, উনসত্তুরের গণআন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কুমিল্লা অঞ্চলের মুক্তিকামী জনতার সংগ্রাম, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ অতুলনীয়। ১৯৭১ সালেল ২৯ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের সকল বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্যবৃন্দ, কুমিল্লা শহরের অনেক গণমান্য ব্যক্তিবর্গকে পাক হানাদার বাহিনী অর্তকিত হামলা চালিয়ে অন্তরীন করে ফেলে। অন্তরীণ করা হয় কুমিল্লা শহরের অনেক ব্যক্তিবর্গকে। এর পর শুরু করে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে। ২৪ জন সামরিক কর্মকর্তা, ৩ শ’ জন বিভিন্ন পদবীর সেনা সদস্য, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল ও কলেজের ১১ জন শিক্ষকসহ সেনানিবাসের প্রায় ৫শ জন ব্যক্তিকে সে দিন পাক বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। বিভিন্নস্থানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তারা এমআর চৌধুরী গ্রাউন্ডের পূর্বপাশে গণকবর দেয়। যা কুমিল্লা সেনানিবাসে একাত্তুরের বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ি যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীনতা। আমরা অর্জন করি আমাদের আত্মপরিচয়। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে শুরু দেশ গড়ার কাজ। দেশ আজ শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর উচ্চশীরে অধিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ শান্তি মিশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে এনেছে সম্মান ও গৌরব। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর মোট ১৩৫ জন শাহাদাৎ বরণ করেছেন। ২১৬ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। তাদের এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগ দেশের জন্য বয়ে এনেছে বিরল সম্মান। বিশ্ব শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত আছে।
তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস এক গৌরবময় ইতিহাস। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হিসেবে আমরাও সেই গৌরবের অংশীদার। মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী দিনগুলোতে গড়ে উঠা এই বাহিনীর সাথে জনগণের বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়। সশস্ত্র বাহিনীর এই মহান দিনে এই বন্ধন দৃঢ় করতে আমরা সংকল্পবদ্ধ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: