নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উৎঘাটনের মাধ্যমে অপরাধ দমনে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরুপ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে প্রথম হয়েছেন কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এস.আই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাঁকে সন্মাননা পুরস্কার হিসেবে ক্রেষ্ট ও সনদ পত্র প্রদান করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস.এম মনির-উজ-জামান বিপিএম-পিপিএম।

জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কুমিল্লা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ তাঁর নেতৃত্বাধীন টিম নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপূল পরিমান মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করেন। গ্রেফতার করা হয় অনেক অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে। এছাড়াও একই সময়ে তিনি অনেক চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস মামলার রহস্য উৎঘাটনসহ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। বুধবার রেঞ্জ কার্যালয়ে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম কে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে সেরা ও প্রথম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে তাকে পুরস্কার হিসেবে ওই সন্মাননা ক্রেষ্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ সময় কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম ছাড়াও রেঞ্জের আওতাধীন অপর ১০ জেলার পুলিশ সুপার এবং পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি গভীর নলকুপের প্রায় ৭০ফুট নীচ থেকে নৃশংস হত্যার শিকার শাহিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের পর দেশব্যাপী বহুল আলোচিত হন এসআই শাহ কামাল আকন্দ। কুমিল্লা ডিবিতে যোগদানের পর তিনি এরই মধ্যে শতাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যা,অস্ত্র, অপহরণ,ডাকাতি ও প্রতারণার মামলার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন। মানিকগঞ্জের সন্তান এসআই শাহ কামাল আকন্দ ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে পিপিএম পদক লাভ করেন। এছাড়াও ধারাবারিক সফলতার জন্য ইতিমধ্যে তিনি জেলা পুলিশ সুপার এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিস থেকে একাধিকবার সন্মাননা পুরস্কার ও সনদ লাভ করেন।

এদিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে সেরা এসআই হিসেবে স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করায় এক প্রতিক্রিয়ায় এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম বলেন, ‘যে কোন পুরস্কার মানুষকে উৎসাহ যোগায়-অনুপ্রেরণা দেয় এবং দায়িত্বশীল করে তোলে।’ তিনি পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস.এম মনির-উজ-জামান বিপিএম-পিপিএম, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো: শাহ আবিদ হোসেন, জেলার অন্যান্য শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ডিবির সাবেক ওসি একেএম মনজুর আলম এবং বর্তমান ওসি নাছির উদ্দিন মৃধার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার কারণেই যে কোন মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আসে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: