বুড়িচং প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের উপজেলা কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারসহ স্টাফদের হামলা করার খবর পাওয়া গেছে। এতে উপজেলা কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ গোলাম রব্বানী সোহেল এবং ডিউটি ডাক্তার সোয়েব আহত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বুড়িচং উপজেলার আরাগ আনন্দপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত গণি মিয়ার ছেলে মোঃ আলী আকবর (৪৫) শরীরের পেছনের অংশে এবং বুক ব্যাথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার মোঃ সোয়েব তাকে গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা নির্ণয় করে একটি ইনজেকশন পুশ করলে কিছু ক্ষনের মধ্যে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। এতে রোগীর সাথে থাকা আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের ইমার্জেন্সী বিভাগে হামলা করে কমিউিনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ গোলাম রাব্বানী সোহেল এবং ডিউটি মো: সোয়েবকে ব্যাপক মারধর করে আহত করে। পরবর্তীতে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বুড়িচং থানাকে খবর দিলে ওসি তদন্ত মোঃ নজরুল ইসলাম, এস আই রাজীব কর, এস আই সফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলা সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে আলী আকবরের মৃত্যু হয়েছে। তারা ভালো ভাবে খোঁজ-খবর না নিয়ে ইনজেকশন পুশ করার কয়েক মিনিটের মধ্য সে মারা যায়।

এই ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় সিভি আর টেষ্ট পেইন নিয়ে রোগী মোঃ আলী আকবর চিকিৎসা নিতে আসলে ডিউটি ডাক্তার মোঃ সোয়েব তাকে গ্যাষ্ট্রিকের ঔষধ দেওয়ার ৭-৮ মিনিট পর হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। তারপর রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালে হামলা চালায় স্টাফদের মারধর করে লাশ নিয়ে চলে যায়।ডাক্তারের সাথে সাক্ষাৎকারের সময় ছিলেন হ্যাপি ডায়াগন্সিটিক সেন্টারের সত্ত্বাধীকারি ইমতিয়াজ আহাম্মেদ ইমন ও আহত ডিউটি ডাক্তার সোয়েব সহ আরো অনেকে। ডাক্তারকে মারধরের ব্যাপারে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করা হবে বলে তারা জানান।

আহত কমিউনিটি সহকারী মেডিকেল অফিসার ডাক্তার গোলাম রাব্বানী সোহেল জানান, উিউটি ডাক্তার সোয়েব রোগী মোঃ আলী আকবরের চিকিৎসা করেছে। কিন্ত রোগীর আত্মীয় স্বজনরা আমার উপর হামলা করে ব্যাপক মারধর করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রত্না দাস ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মনোজ কুমার দে ও ওসি (তদন্ত) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করেছি। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ তাদের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করি এবং নিহত আলী আকবরের পরিবার যদি অভিযোগ করে ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেছে তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
নিহত হওয়া আলী আকবরের খালাত ভাই মোঃ কামাল হোসেন জানান, ডাক্তারের প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ নেই। মৃত্যু ব্যক্তি নিয়ে আমরা কোন হইচই করতে চাই না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি বাড়াবাড়ি করে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করব।

এই বিষয়ে আরাগ আনন্দপুর গ্রামের মেম্বার মোঃ জামাল হোসেন জানান, উভয় পক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে এবং বুড়িচং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলমের সহযোগীতায় সুষ্ঠ সমাধান করা হবে। নিহত আলী আকবরের স্ত্রী ও ৪ মেয়ে রেখে মারা যান।

বুড়িচং সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, ভুল চিকিৎসার মৃত্যুর খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চলে যাই। সেখানে গিয়ে সকল হাসপাতালের সকল কর্তব্যরত ডাক্তার এবং স্টাফদেরকে নিয়ে জরুরী একটি মিটিং করি। মিটিংয়ে ডাক্তাররা বলেন, রোগী আলী আকবর সে আগেই দুর্বল ছিলেন এবং বুক, পিট ব্যাথা বেশি হওয়াতে হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং আমাদের চিকিৎসা অনুযায়ী তাকে একটি গ্যাষ্ট্রিকের ইনজেকশেন পুশ করার কিছুক্ষন পর আলী আকবর মারা যায়। কিন্তু এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগী আত্মীয় স্বজন ১০-১৫ জন এসে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে হামলা চালায় ভাংচুর করে আমাদেরকে মারধর করে আহত করে। চেয়ারম্যান শাহ আলম আরো জানান, সততা যাচাই করে যদি ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যায় তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনের সহযোগীতা কামনা করব।

উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইমরুল হাসান জানান, আমি এই ঘটনা শুনেছি এবং সত্য উদঘাটনের জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: