কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরে অবস্হি হাসপাতাল গেইটে ভুয়া ডাক্তার ও দালালদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রোগী নিয়ে ডাক্তার ও দালালদের টানা হেচড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকালে এধরণের ঘটনার জের ধরে ডাক্তার খানা নামের এক কর্মী শিউলি আক্তারকে হামলা চালিয়ে আহত করে। এঘটনায় বুড়িচং থানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বুড়িচং উপজেলা সদরে অবস্হিত হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন সাজেদুর রহমান ও ভুক্তভোগী রোগী মোঃ রফিকুল ইসলামের দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গড়ে উঠেছে নামে বেনামে ৭-৮ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার যার অধিকাংশের কোন মান নেই। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য কোন রোগী যেতে চাইলে তাদের পথরোধ করে দাঁড়ায় এবং তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এ অভিজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছে বলে ভালো চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে প্রতারনা করে। এ সমস্ত প্রতারনা করেছে মানহীন ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার ও দালাল গন।

তাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ করেন যে হাসপাতালের ভিতরে গিয়ে রোগীর ব্যবস্হাপত্র দেখে তাদেরকে বিভিন্ন কৌশলে দালালরা নানাহ পরীক্ষা নিরীক্ষা করান ঊচ্চ মূল্যে। আবার ওই সমস্ত দালাল ও ডাক্তার গন কোন রোগীকে কৌশলে তাদের চেম্বারে নিতে পারলে রোগীকে যতরকমের পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে রাখে। এসমস্ত দালাল ও ডাক্তারদের খপ্পড়ে পড়ে রোগীরা প্রতারিত হয়ে বাড়ি ফিরে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান ভূয়া ডাক্তারদের পাল্লায় পড়ে হাজার হাজার টাকা ক্ষোয়া যায় কিন্তু রোগের কোন উন্নতি হয় না। তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী কোন ব্যবস্হা নেয়া হয় না।

মঙ্গলবার সকালে এসমস্ত ঘটনার জের ধরে ডাক্তার খানা চেম্বারের এক নারী শ্রমিক শিউলী আক্তারকে পপুলার ও আদম খান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোক এসে তার উপর হামলা করে আহত করে। হামলা কারীরা হল হালিমা আক্তার, শিউলি আক্তার ২, আখি আক্তার, নিলুফা আক্তার, সীমা আক্তার। উল্লেখিত ৫ জনকে আসামী করে মঙ্গলবার দুপুরে বুড়িচং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ডাক্তার খানার কর্নধার মোঃ সাজেদুর রহমান।

এব্যপারে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা মোঃ মীর হোসেন মিঠু বলেন হাসপাল গেইট সংলগ্ন স্হানে কয়েকটি মান হীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুলো তিনি স্বীকার করেছেন। এ অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে তিনি শুনে আসছেন বলে জানান। ভূয়া ডাক্তার অর্থাৎ এমবিবিএস দের এবং ডায়াগনস্টিক মালিকরা তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য দুটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি দেওয়ার পর ও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেনি তাই প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে বিহিত ব্যবস্হা নেয়া হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: