ডেস্ক রির্পোটঃ কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্বা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি বলেছেন, কুমিল্লার রাজনৈতিক ময়দানে ৫০ বছর সততার সাথে রাজনীতি করেছি। সাধারন মানুষের পাশে দাড়িয়েছি, উপকার করেছি, কাজ করে দিয়েছি বিনিময়ে এককাপ চা খাইনি, দুর্নীতি করেনি। কারো পকেটের দিকে তাকাই নি,চেহারা দিকে তাকিয়েছি। শুধু আপোষ করেনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশ্নে। বিএনপির আমলে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে যারা পা দিয়েছিল তাদের পায়ের গুড়ালী কেটে জেলে গিয়েছি। জামায়াত শিবিরের সাথে আপোষ করেনি। সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে যারা আজ সততা নিয়ে কথা বলছে তারাই মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, মানুষের সম্পদ লুট করেছে। কুমিল্লার ছাত্র-অভিভাবকদের টাকায় গড়া কুমিল্লা মডার্ণ স্কুল থেকে আফজাল খান পরিবার শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কুমিল্লায় আর কাউকে লুটপাতের রাজত্ব কায়েম করতে দেওয়া হবে না। আমি কুমিল্লাকে শান্তির কুমিল্লা,চাঁদাবাজ মুক্ত কুমিল্লা,মাদক মুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। শেখ হাসিনা দূর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা আজ নতুন সাজে সেজেছে।নতুন করে জাগরন তৈরী হয়েছে। আমার দলের কেউ অপরাধ করলেও ছাড় নেই। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার আদর্শকে লালন করে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রতিটি কর্মীর কর্মকান্ডের সাথে দলের সুনাম জড়িত। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সুনাম জড়িত। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে শেখ হাসিনার যোগ্য কর্মী হিসেবে নিজেকে গড়তে হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মহানগর ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী বাহার এমপি এসব কথা বলেন।

হাজী বাহার এমপি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে। আমার হাতে গড়া কর্মী দুলাল হত্যার মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলায় আমাকে জেলে যেতে হয়েছিলো। তখন আওয়ামীলীগ থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা আমাকে বহিস্কার করেছিলো। কারাগারে থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জামিন নিয়ে নির্বাচন করে ৩৫ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। তখন এমপি হতে না পারলেও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলাম। অত্যন্ত তরুণ বয়সে আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। কুমিল্লার মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে আমার কাছে। এই বিষয়টি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম। তখন থেকেই কুমিল্লার জন্য কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। ২৩ বছর দলে পদ বি ত ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হই নি। অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীডরা নয়, দলের ত্যাগী পরীক্ষিতরা কমিটিতে স্থান পাবেন। জামায়াত শিবিরের সাথে কোন আপোষ নয়। কোন মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের আওয়ামী লীগে স্থান নেই।

মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন -মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জেলা পিপি এড. জহিরুল ইসলাম সেলিম, আব্দুল আলীম কা ন, আবুল কাশেম রৌশন,ডা: আবদুল বাকী আনিছ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাংগীর, আতিকুল্লাহ খোকন, আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক কাজী আবুল বাসার, মহানগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন ভৌমিক, মহানগর আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক শিবু প্রসাদ ভৌমিক, প্রচার সম্পাদক জহিরুল কামাল, কোষাধ্যক্ষ আলী মনসুর ফারুক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাছান খসরু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সাদেকুর রহমান রানা,উপ দপ্তর সম্পাদক দুলাল মাহমুদ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু,মহানগর আ.লীগের সদস্য কাউন্সিলর কাইয়ুম খান বাবুল, হেলাল উদ্দিন , মোখলেছুর রহমান, মহিলা কাউন্সিলর নুরজাহান আলম পুতুল,কাউছারা বেগম সুমি,মহানগর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম,মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহ্মুদ সহিদ,মহানগর আ’লীগের মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান পিয়াস,মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবদুল আজিজ সিহানুক। সম্মেলনে মহানগর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্নস্তরেরর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান স ালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাংগীর হোসেন ও মহসিন আহমেদ।
১৪নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি হাসেম,সেক্রেটারী আজাদ ঃ
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্বা আ.ক.ম বাহাউদ্দির বাহার এমপি আবুল কালাম আজাদ হাসেমকে সভাপতি ও আজিজুল হক আজাদ কে সাধারন সম্পাদক করে কুমিল্লা মহানগর ১৪ নং ওয়ার্ড নবগঠিত আওয়ামী লীগের ৬৯ সদস্যের কমিটির নাম ঘোষনা করেন। তারণ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে দলের ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের নিয়ে সমন্বয়ে গঠিত নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নেতা-কর্মীরা বিপুল করতালির মাধ্যেমে অভিনন্দন জানান।