ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার চান্দিনায় ছোট ভাইয়ের কাছে শ্যালিকাকে বিয়ে না দেওয়ায় বিয়ের আগের দিন শ্বশুরকে হত্যা করলো জামাতা। শনিবার (৮ জুন) সকালে চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের নগরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা।

নিহত মোহাম্মদ আলী (৫৫) নগরকান্দি গ্রামের মোকশত আলীর ছেলে। তিনি ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের বাবা। নিহতের জেঠাতো ভাই ফখরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক মাস যাবৎ তার বড় মেয়ের জামাতা পাশ্ববর্তী চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বিতারা গ্রামের ঈমাম হোসেন তার ছোট শ্যালিকা রীমা আক্তারকে তার ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। কিন্তু জামাতার ওই প্রস্তাব মেনে নেয়নি মোহাম্মদ আলীসহ তার পরিবার।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লায় এশিয়া লাইন পরিবহনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

রমজান চলাকালে রীমা আক্তারের বিয়ে ঠিক হয় অন্যত্র। ওই সময় জামাতা ঈমাম হোসেনও সঙ্গে ছিল। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রবিবার (৯ জুন) সামনে রেখে অতিথি নিমন্ত্রণসহ বিবাহের সকল প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।

শনিবার সকাল ৯টায় মোহাম্মদ আলী তার এক ভাতিজাকে নিয়ে দোল্লাই নবাবপুর বাজারে কেনাকাটা করতে যান। একটি মুদি দোকানে কেনাকাটার সময় জামাতা ঈমাম হোসেন তার শ্যালককে দোকানে বসিয়ে তার শ্বশুর মোহাম্মদ আলীকে ডেকে আনে। এরই মধ্যে কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের আর কোন খোঁজ না থাকায় শ্যালক মুদি খরচ নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন।

এদিকে, দুপুর দেড়টার দিকে নগরকান্দি গ্রামের একটি জমিতে পাড়ার ছেলেরা ক্রিকেট খেলার সময় পাশ্ববর্তী খালে নিহত মোহাম্মদ আলীকে পড়ে থাকতে দেখে। তারা তাকে উদ্ধার করে দোল্লাই নবাবপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লায় তিশা বাস-অটোরিক্সার সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল ফয়সল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শ্বশুরকে হত্যার পর জামাতা সকলের চোখ ফাঁকি দিতে আবার শ্বশুরালয়ে ফিরে আসে। নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ