ছবিঃ প্রতীকী

সড়কের সিগন্যাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি কিংবা বিয়ে বাড়ি। কুমিল্লার সবখানেই হিজড়াদের টাকা তোলা যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ ভয়ে কেউ আবার স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। কিন্তু ইদানিং হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। পাল্টে গেছে তাদের টাকা চাওয়ার ধরনও। আগের দিনের সেই টাকা তোলা এখন চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে। কুমিল্লার রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে হিজড়ারা।

‘কই ভাই টাকাটাদে’, ‘লও লও হিজড়াগো টাকাটা লও’, ‘এই দেরি করিসনা টাকা দে’- এইভাবেই উচ্চস্বরে পরিবহন গুলোতে দাপিয়ে বেড়ায় হিজড়াদের দল। কোন যাত্রীর টাকা দিতে দেরি হলে কিংবা টাকা না দিতে চাইলে শুরু করেন দুর্ব্যবহার। এমনকি অনেককে শারীরিক ভাবেও লাঞ্চিত করেন হিজড়ারা।

এমন পরিস্থিতিতে কেউ সম্মানের কথা ভেবে টাকা দিয়ে দেন। আবারও কেউ প্রতিবাদও করেন। তবে হিজড়াদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে কেউ কথা বলছেন না। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে একদল হিজড়া পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সহ বিভিন্ন এলাকায় বাসে হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা। প্রশাসনিক ভাবে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এরা। সূর্য উঠার সাথে সাথে একদল হিজড়া সাজগোজ করে বিভিন্ন মোড়ে দুইজন কিংবা তিনজন দলবেঁধে অবস্থান নেয়। এরপর রিকসা কিংবা বিভিন্ন বাসে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে।

উপকূল পরিবহন বাসের এক যাত্রী বলেন, কি বলবো ভাই গাড়িতে উঠার পরপরই একদল হিজড়া এসে টাকা চাচ্ছে, না দিলে আবার খারাপ ব্যবহার করছে। এদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলছে না। কি যে এক বিব্রতকর অবস্থা, বুঝানো মুশকিল। মনে হচ্ছে প্রশাসনও এদের কাছে জিম্মি।

কিছুদিন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের ওপর হিজড়াদের হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় নার্স আবুল খায়ের আহত হয়। এ ঘটনায় লাকসাম থানায় ১টি অভিযোগ দায়ের করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।