করোনার কারণে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২১৭ জন আসামিকে জামিন দেয়া হতে পারে। শনিবার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসামিদের পৃথকভাবে তালিকাও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এতে সব কিছু যাছাই-বাছাই করে নির্দেশনা পেলেই এসব জামিনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, করোনা আতঙ্ক কাটাতেই সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যাদের অপরাধ লঘু এবং যারা ছয় মাস ধরে সাজা ছাড়াই কারাগারে হাজত বাস করছেন, এমন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের চেষ্টা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও প্রতারণা এসব অপরাধে অপরাধীদের তালিকাও করা হয়েছে। তবে দাগী অপরাধী যেমন- হত্যা, মাদক, ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের আসামি, তাদেরকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যাছাই-বাছাই করেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে (কোভিট-১৯) সারাবিশ্বের মানুষকে আতঙ্কে রেখেছে। সেই আতঙ্ক দেশের কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যেও রয়েছে। তার ওপর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দী থাকার বিষয়টি আরো বেশি সমস্যায় ফেলে দিয়েছে কারা কর্মকর্তাদের। শনিবার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট বন্দী ছিল ২ হাজার ৩৬৫ জন। এর মধ্যে প্রায় ১০২ জন নারীও রয়েছে।

তাই বন্দীদের করোনা আতঙ্ক কাটাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ বিশেষ জামিনের উদ্যোগ নিয়েছে। লঘু অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে হাজত বাস করছেন, প্রথম ধাপে এমন বন্দীদের জামিন দেয়া হবে। ফলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কুমিল্লা কারাগার থেকে ২১৭ জনের মতো বন্দী জামিন পেতে পারেন। এই ২১৭ জন বন্দীকে পৃথক তিনটি ক্যাটাগরিতে বাছাই করা হয়েছে।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সকল কয়েদি বন্দী রয়েছেন , যাদের সাজার মেয়াদ সর্বোচ্চ ছয় মাস অবশিষ্ট আছে এমন কয়েদি বন্দী হচ্ছে ৭৭ জন, লঘু অপরাধে আটক সর্বোচ্চ এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ১১৯ এবং সবোর্চ্চ ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ২১জন রয়েছেন।

এ বিষয়ে করোনার প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী রোগীদের বিষয়ে জানতে চাইলে কারাগারের চিকিৎসক ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিটি নির্দেশনা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচেছ। শুধু তাই নয়, কারাগারে যখনি কোনো নতুন বন্দী আসছেন তখনি আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ১৪ দিন পর তাকে আমরা সাধারণ বন্দীদের ওয়ার্ডে স্থানান্তর করছি। এরইমধ্যে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। কারা হাসপাতালের প্রতিটি রোগী বন্দীসহ কারাগারের সব বন্দীদের প্রতি বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। যাতে যে কোনো সমস্যা হলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহজাহান বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার গৃহিত প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা সঠিকভাবে পালন করে আসছি। বাইরে থেকে যে কেউ কুমিল্লা কারাগারের মূল গেটের ভেতর ঢুকতে হলে তাকে অবশ্যই আমাদের স্থাপিত বেসিনে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ভেতরে প্রবেশ করে মূল কারাগারের ভেতর যে গেট আছে সে গেটের কাছে আরো তিনটি বেসিন আছে। এখানেও সাবান-পানি দেয়া আছে। আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সবাইকেই এই বেসিনে হাত ধুতে হবে। এরপর মূল গেটের ভেতর প্রবেশ করার পর একটি বড় ট্রে আছে সেখানে জীবাণুনাশক পানির উপর দিয়ে গেলে জুতার নিচু অংশ ভিজবে। এরপর প্রতিটি কারা ওয়ার্ডের সামনেই রয়েছে সাবানসহ পানি। ভেতরের বাথরুমগুলোও সেভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমাদের বন্দীরা ভেতরে মাস্ক তৈরি করছেন। সবাই আমাদের তৈরি মাস্ক ব্যবহার করছেন এ ছাড়ারা আমাদের নিজস্ব ফগার মেশিন দিয়ে এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও একইভাবে আমরা আমাদের ভেতরে এবং বাইরের প্রতিটি ওয়াল, ড্রেন এবং রাস্তা আমরা জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটাচ্ছে। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরাও এ বিষয়ে নিজেরা এসে আমাদের সহযোগিতা করছেন।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আরো বলেন, আল্লাহর রহমতে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যার ফলে এই পর্যন্ত আমরা কোনো নেগেটিভ খবর পাইনি। আমাদের প্রতিটি স্টাফ নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। আমাদের উপর থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে নাম চাওয়া হয়েছে। আমরা তিনটি ক্যাটাগরি থেকে ২১৭ জনের নাম শনিবার ঢাকায় পাঠিয়েছি। এখন উপর থেকে যেভাবে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সেই মোতাবেক বন্দীর মুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করব।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: