কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্নীয়কারণ, মনোনয়ন বাণিজ্য ও পদ-পদবি বাণিজ্যের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। জনশ্রুতি আছে কেন্দ্রে জমা দেওয়া জেলা কমিটিতে রোশন আলী মাস্টারের চাচাতো ভাই, ভাতিজাসহ বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ খবর জানাজানি হলে তৃণমূলের ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, গত ২০ অক্টোবর দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার চুক্তি করে জনৈক বশিরুল আলম মিয়াজির কাছ থেকে রোশন আলী মাস্টার ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, তিনি মনোনয়ন পাননি। বিশাল অংকের এই টাকা ফেরত পেতে দফায় দফায় দেন-দরবার চলছে বলে দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় ওই সূত্রটি জানায়, মোতাহার ও শিশির নামের দুইজন এই টাকা লেন-দেনের সাথে সম্পৃক্ত।

জেলার ৭টি উপজেলা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, রোশন আলী মাস্টারের মত এক চরম দুর্নীতিপরায়ণ লোক কিভাবে দলের এই শীর্ষ পদটি বাগিয়ে নিলো তা বোধগম্য নয়। এদিকে উপজেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদে আসীন করতে হাইব্রিড ও দুর্নীতিবাজ ও অস্বচ্ছ, অজনপ্রিয় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে এলাকার লোকমুখে বলাবলি হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি হওয়ার পর গত ৭ মাসে তার নিজ এলাকা দেবীদ্বারে কোনো দলীয় প্রোগ্রামে যাচ্ছেন না। একটিবারের জন্য তিনি তার নিজ এলাকায় যাননি।

দেবিদ্বারের নেতা-কর্মীরা জানায়, রোশন আলী মাস্টার এলাকায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এ বিষয়ে তদন্ত করে রোশন আলী মাস্টারকে তার পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানান।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রওশন আলী মাস্টার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে এগুলো ভিত্তিহীন। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি, নিজের আখের গোছানোর রাজনীতি করি না। আমার নিজের যে ব্যবসা আছে তাই যথেষ্ট। অবৈধ টাকা পয়সা আমার লাগে না। যেসব জায়গা থেকে আমার নামে এসব ছড়ানো হচ্ছে, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি যদি অবৈধ টাকা পয়সা নিতাম, কোটি কোটি টাকা কামাতে পারতাম। আমি অন্যায় কাজ করি না।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: