গত প্রায় চার বছর ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কটি নিয়ে মহাদুর্ভোগে রয়েছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাতে পোহাতে সড়কটি এখন চালক ও যাত্রীদের কাছে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি দিয়ে চলাচল করতেও এখন ভয় পান যাত্রীরা। বেহাল সড়ক আর অসহনীয় যানজটের কারণে দেড় ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা। গত কয়েক বছর ধরে অবস্থাটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কোন সুস্থ মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেই যেন অসুস্থ হয়ে পড়বেন। মহাসড়কটির বেশিরভাগ স্থানেই অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বেহাল এই মহাসড়কে যাতায়াতে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকারে পৌঁছেছে।

এদিকে, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কটি বর্তমানে ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। তবে কাজটি চলছে শম্ভুক গতিতে। যার কারণে নির্দিষ্ট সময় পার হলেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ। বেড়েছে কাজের মেয়াদকাল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কটির বিজয়পুর থেকে লালমাই এলাকার বিভিন্ন স্থানে একেবারেই নাজুক অবস্থা। আর লালমাই বাজারের দণি পাশ থেকে শুরু হয়ে বাগমারা বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কে রয়েছে বড় বড় গর্ত। দুই-তিন ফুট গভীরতার এমন গর্ত রয়েছে কয়েক’শ। সড়কটির কুমিল্লা অংশের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বাগমারা এলাকা, লাকসামের মিশ্রি, জংশন ও বাইপাস হাউজিং এলাকা, মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার এলাকা, নোয়খালীর সোনাইমুড়ি ও বেগমগঞ্জ এলাকা। এসব এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে আস্তে আস্তে হেলে-দুলে গাড়ি চলে। ভয়ংকর এই সড়কটিতে প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। আর এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কুমিল্লা ও অন্যান্য সূত্র জানায়, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কটি ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের দণিাঞ্চলের কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লীপুর জেলাসহ সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই ফোরলেনের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ধীর গতির কারণে কাজের মেয়াদকাল বেড়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এই ফোরলেনের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ১৭০ কোটি টাকা।

লাকসাম বাইপাসের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে জনভোগান্তি বেড়েছে। দীর্ঘ প্রতিার পর গত প্রায় ৫ মাস আগে লাকসাম অংশে দুই লেনের কাজ শুরু হয়েছে। তবে ধীরগতি এবং সড়ক খোড়া হলেও ড্রেন নির্মাণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার কারণে এখানে সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। বাধ্য হয়ে একদিকের গাড়ি এখন বাজারের ভিতরের বিকল্প পথ দিয়ে চলাচল করে। এরপরও ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

এই সড়কে চলাচলকারী উপকূল বাসের চালক সামছুল আলম বলেন, সড়কটিতে বড় বড় গর্ত আর ভাঙা থাকায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। গত প্রায় ৪ বছর ধরে এমন বেহাল অবস্থা চললেও এটি সংস্কারে স্থায়ী কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

লাকসাম থেকে ঢাকাগামী তিশা বাসের চালক আবুল কাসেম বলেন, এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে আর ভালো লাগে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি নিয়ে মহাদুর্ভোগে রয়েছি। আর কতদিন এভাবে কষ্ট করবো তাও জানি না।

লাকসাম ও নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী কয়েকটি বাসের অন্তত ৫ জন চালক জানান, ওই সড়কের যেসব অংশে বেশি ভাঙা, সেসব অংশ এলে যাত্রীরা ঝাঁকুনির ভয়ে বাস থেকে নেমে যেতে চায়। এছাড়া বড় বড় গর্তগুলোতে আটকে পড়ার কারণে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যায়। তখন যাত্রীরা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় আতংকে থাকি। দোয়া-দরুদ পড়ে গাড়িতে উঠি। সড়কে বড় বড় গর্ত থাকায় গাড়ি চলে হেলে-দুলে। তখন ময়ে হয় এই বুঝি খাদে গিয়ে পড়লাম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড.মো.আহাদ উল্লাহ বলেন, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক ফোরলেন প্রকল্পের মেয়াদকাল বেড়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। ওই সময়ের মধ্যেই আশা করছি কাজ শেষ করতে পারবো। আর বর্তমানে দ্রুত গতিতে ফোরলেনের কাজ চলছে। এছাড়া যেখানে সড়ককের অবস্থা খারাপ, সেখানে সংস্কার করে দেওয়া হচ্ছে। আর যেকোন উন্নয়নের স্বার্থে মানুষকে কিছুটা কষ্ট মেনে নিতে হবে।

সূত্রঃ barta24

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: