কুবি প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত না করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করেই ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের দাবিতে এবার আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। মেগা প্রকল্পে ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর দুর্বার আন্দোলনের পর এবার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মো. কামাল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সংলগ্ন ১৩ জন বাদীর পক্ষে এ আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন।

আইনি নোটিশটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইউজিস’র চেয়ারম্যান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা পুলিশ সুপার, কোটবাড়ী পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্বিখণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুর্বার আন্দোলন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রভাবশালী মহলকে খুশি করতে আন্দোলনরত এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দাবিকে সুকৌশলে এড়িয়ে যান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত স্থানের আশে পাশে জায়গা কিনে রেখেছে বলে জানা যায়।

আইনি নোটিশে বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর ২০১৮ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। উক্ত প্রকল্পের জন্য ব্যয়িত অর্থের অধিকাংশই ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় হবে বলে জানা যায়। মেগা প্রকল্পটি হাতে নেয়ার বিষয়টি জানার পর একটি প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এলাকায় (ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত এলাকা) প্রায় ১ বছর আগে বিশাল সম্পত্তি কিনে নিয়েছে। নোটিশটিতে আরো বলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভূমি অধিগ্রহণে কুমিল্লা সদর উপজেলার লালমাই মৌজার অর্ন্তভূক্ত ৭, ৯, ১২ ও ১৩ নং সিটের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রভাবশালী ঐ মহলটি উক্ত জমি বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টা দ্বিখণ্ডিত করার মধ্য দিয়ে প্রভাবশালী এ মহলটি গভীরে চক্রান্ত করছে বলে উল্লেখ করা হয় নোটিশটিতে। বর্তমান ক্যাম্পাসটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা যে কোন শর্তে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে ভূমি দিতে প্রস্তুত বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। নোটিশ প্রেরণের তারিখ হইতে ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশ দাতাগণের প্রার্থীত দাবির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুকৌশলে ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা করছে। বর্তমান ক্যাম্পাস সংলগ্ন যাদের জমি আছে তারা যে কোন শর্তে জমি দিতে প্রস্তুত এবং এ ব্যাপারে তারা হাইকোর্টেও লিখিত দিয়েছে। এমনকি ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার কার্যক্রম বন্ধ না করলে তারা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন।

এ বিষয়ে নোটিশ দাতা আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, ‘গত ৩০ মে সংশ্লিষ্টদের বরাবর বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত আইনি নোটিশ প্রেরণ করি এবং সেখানে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার কার্যক্রম বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। আশা করি নোটিশ গ্রহীতাগণ এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন।’

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, কোর্ট থেকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে তার জবাব আমি কোর্টকে দিব। এ বিষয়ে সাংবাদিকের কাছে কোন বক্তব্য দিতে রাজি নই।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘লিগ্যাল নোটিশ আমি পাইনি তাই এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যদি বর্তমান ক্যাম্পাস সংলগ্ন পর্যাপ্ত জায়গা থাকে তাহলে দূরে কেন জায়গা নিবে? তাছাড়া এখানে সরকারের কোটি কোটি ব্যয় হয়েছে। আমার সুযোগ থাকলে এ বিষয়ে আমি কথা বলবো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা লিগ্যাল নোটিশটি পেয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী তার জবাব দিব।