ত্রাণের দাবিতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়েছে। দুই শতাধিক স্থানীয় মাইক্রোবাসের চালক আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০ টাকা থেকে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় সেনাবাহিনীর টহল দল এবং দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের টহল দল এসে আগামী দুই দিনের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে চালকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। চালকদের অবরোধের সময়ে ঢাকাগামী পণ্যবাহী এবং জরুরি যাত্রীবাহী অর্ধশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মাইক্রোবাস চালক আবদুস সাত্তার এবং আবদুল মোতালেব বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুই শতাধিক মাইক্রোবাস চালকের পরিবারের সদস্যরা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানেরা বাসায় কান্নাকাটি করলেও খাবার কিনে দিতে পারছে না। তাঁরা এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি। তাঁরা ত্রাণ না পেলে ভবিষ্যতে পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করবেন বলে জানিয়ে দেন।

গৌরীপুর একতা ড্রাইভার সমিতির সভাপতি মো. আলাল বলেন, সরকারিভাবে ত্রাণ পেতে ১৯১ জন মাইক্রোবাস চালকের তালিকা তৈরি করে ২৬ মার্চ দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খানের বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না।

কুমিল্লা সেনানিবাসের ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন এবং দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার টিএসআই আশরাফ হোসেন বলেন, ত্রাণের দাবিতে চালকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধের বিষয়টি দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান বলেন, মাইক্রোবাসের চালকদের তালিকা পেয়েছেন। দিনরাত কাজের চাপে এবং পুরো দাউদকান্দি ত্রাণ পৌঁছে দিতে বিলম্ব হয়েছে। তালিকা পাওয়া চালকদের ত্রাণ দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: