মো: ওমর ফারুকঃ নাঙ্গলকোটে সিনিয়র এবং জুনিয়র নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে কলেজ এক শিক্ষার্থীকে পেটে চুরিকাঘাত করে হত্যাচেষ্টার ঘটনার মামলার বাদিকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি এবং মাদকের মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

এব্যাপারে শিক্ষার্থীর বাবা মো. আইয়ুব আলী গত বৃহষ্পতিবার নাঙ্গলকোট থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের বাগরা গ্রামের মো. আইয়ুব আলীর ছেলে ও ঢালুয়া হোমনাবাদ আদর্শ কলেজের এইচ এস সি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেনের সাথে একই ইউনিয়নের আলীয়ারা গ্রামের জাফর আহম্মদের ছেলে মো. রবিনের সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় মো. ইমরান হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বন্ধু শাহপরানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় আলিয়ারা গ্রামের দাস পুকুর পাড়ের আনোয়ার হোসেনের দোকানের সামনে আসলে বখাটে রবিন ও তার চাচাতে ভাই আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে মো. রাহিম মো. ইমরান হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।

এ নিয়ে মো. ইমরান হোসেন প্রতিবাদ করলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে রাহিম ইমরান হোসেনকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে এবং রবিন পেটের নাভীর উপরে চুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় মো. ইমরান হোসেনের পেটের নাড়ি-ভুড়ি বের হয়ে যায়। তাকে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। শিক্ষার্থীর বাবা বাদি হয়ে গত ২৮ এপ্রিল রবিন ও রাহিমকে আসামী করে ৩২৬/৩০৭ ধারায় নাঙ্গলকোট থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামীরা গত ২৯ এপ্রিল কুমিল্লার আদালতে আগাম জামিনের জন্য গেলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

মামলার বাদি মো. আইয়ুব আলী বলেন, মামলার আসামীদের পিতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, আমার পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া আসামীরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছেলে। তারা জামিনে এসে আমার ছেলেকে কলেজে যাওয়ার পথে হত্যা করতে পারে বলেও তিনি আশংকা প্রকাশ করেন, মিথ্য মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।