ছবিঃ প্রতীকী

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মক্রবপুর পূর্ব পাড়া মিয়াজী বাড়ির ওমান প্রবাসী ইলিয়াছের স্ত্রী নাজমা বেগমের ক্রয়কৃত সম্পত্তি একই বাড়ীর আবদুর রহিম ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখল ও বাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মক্রবপুর গ্রামের পূর্বপাড়া মিয়াজী বাড়ির আলী আশ্বাদের ছেলে মনির হোসেন ও তার ভাই ছায়েদুল হক থেকে ২০০৯ সালে একই বাড়ির ওমান প্রবাসী ইলিয়াছের স্ত্রী নাজমা বেগম সাড়ে ৭ শতক সম্পত্তি একটি ঘরসহ ক্রয় করেন। সম্পত্তি ক্রয়ের পর নাজমা বেগম চিকিৎসার জন্য ভারতে চলে যায়। এর মধ্যে আলী আশ্বাদের ভাই আবদুর রহিম তাদের যৌথ মালিকানার ৪৪ শতক সম্পত্তির মধ্যে ২২শতক সম্পত্তি চৌহদ্দি উল্লেখ না করে গোপনে তার ছেলে বাবলু, জাহিদ, নুরুন নবী, নুরুল আফছার ও সাইফুলের নামে কবলা করে দেন। এতে করে আবদুর রহিমের ছেলে বাবলু ও জাহিদ জোরপূর্বক নাজমা বেগমের জমি দখল করে নেন। নাজমা বেগমকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসলেও আবদুর রহিম তার ছেলেরা সালিশ বৈঠকে উপস্থিত না থেকে বারবার সময়ক্ষেপন করে তাকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।

আরো জানা যায়, আলী আশ্বাদ ও আবদুর রহিমের য়ৌথ মালিকানার ৪৪ শতক সম্পত্তির মধ্যে সামাজিকভাবে অর্ধেক অংশে আলী আশ্বাদের পরিবার ও বাকি অর্ধেক অংশে আবদুর রহিমের পরিবার বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু আবদুর রহিম যৌথমালিকানার সম্পত্তি আলী আশ্বাদের অংশের ২২শতক সম্পত্তি তার ছেলেদের নামে গোপনে কবলা করে দেন। অথচ আবদুর রহিম তার অংশের সম্পত্তিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।

নাজমা বেগম জানান, আবদুর রহিম তার ছেলে বাবলু, জাহিদ আমাকে বিভিন্ন সময়ে মারধরের হুমকি, উসকানিমূলক কথাবার্তা বলা এবং আমার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য চেষ্টা করে আসছে। তারা আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল ছাড়ছে না। আমার বাড়ির চলাচলের ২ শতক সম্পত্তিও জোর পূর্বক দখল করে নেয়।

জানা যায়, আবদুর রহিম ও তার ছেলেরা একই গ্রামের আবদুল মালেক মোল্লার ২শতক সম্পত্তি, মোঃ ইউছুফের আধা শতক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আবদুল আজিজ মিয়াজির ছেলে রফিকুল ইসলাম মিয়াজিকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ রয়েছে।

আলী আশ্বাদের ছেলে মাষ্টার জাকির হোসেন বলেন, সামাজিকভাবে আমার পিতা আলী আশ্বাদ ও চাচা আবদুর রহিম যৌথমালিকানার সম্পত্তির একটি অংশে আমরা ও অন্য অংশে আমার চাচা বসবাস করে আসছেন। কিন্তু আমার চাচা আমাদের দখলীয় সম্পত্তি তার ছেলেদের নামে গোপনে কবলা করে দেন। এছাড়া আবদুর রহিম পূর্ব-দক্ষিণ দিকে যৌথ মালিকানার আরো দুই শতক সম্পত্তি জোরপূর্বক বিক্রি করে দেন। আমার চাচা আবদুর রহিম, ছেলে বাবলু, জাহিদ সন্ত্রাসী ও খারাপ প্রকৃতির লোক। আবদুর রহিম চর্তুদিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জুলুম করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তারা নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তারা আমার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করছে।

এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে আব্দুর রহিমের ছেলে বাবলুর বক্তব্য নিতে গেলে দুলাল নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি এ বিষয়ে নিউজ করে তাহলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে, এ জায়গার মালিক নাজমা বেগম নয়।