মো.ওমর ফারুকঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউপির মেরকট গ্রামে স্বামী স্ত্রী ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রতিবেশী বাড়ীর লোকজন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তান্ডব চালিয়ে পুরো গ্রামে ত্রাশের সৃষ্টি করে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,গত মঙ্গলবার ওই বাড়ীর খুশি বেগম ও তার স্বামী নুর আলমের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এরপর নুর আলম তার স্ত্রীকে মারধর করে। খবর পেয়ে তার দুই শালা খুশির ভাই তাজুল ইসলাম ও নুর ইসলাম ভগ্নী প্রতি নুর আলমকে জিজ্ঞাসা করতে গেলে তখন ওই দুই ভাইকেও মারধর করে। প্রতিবেশী আব্দুল মালেকের ছেলে মনির হোসেন ও এনায়েত উল্লার ছেলে ইয়াছিন গিয়ে তাদের ঝগড়া থামায়। গত বুধবার নুর ইসলাম স্থানীয় মেম্বার জহিরের কাছে নালিশ দেয়। তখন মেম্বার যুবলীগ নেতা জহির,ফারুক,রোবেলসহ ১০/১৫ জনকে পাঠায় সরেজমিন গিয়ে ঘটনাটি মিমাংশা করার জন্য।

কিন্ত তারা এসে উল্টো মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের বসত ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে চলে যায়। তখন বাড়ীর লোকজন ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

পূনরায় আবার দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ২০/৩০ জনের একটি গ্রুপ এসে পুরো বাড়ীতে তান্ডব চালিয়ে পাঁচটি বসত ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।
সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে নারী পুরুষসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, জিনু মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম (৪৫) মুরশেদ আলমের ছেলে শাহিন (১৭) এনায়েত উল্লার ছেলে ইলিয়াস (১৫) মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আব্দুর রেজ্জাক (৫০) আব্দুল মালেকের ছেলে মনির হোসেন। সন্ত্রাসীদের হামলায়, ওমান প্রবাসী জহির আলমের বসত ঘর,মৃত আব্দুল গনীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের বসত ঘর,আব্দুল মন্নানের ছেলে কবির হোসেনের বসত ঘর,এনায়েত উল্লার ছেলে ইয়াছিনের বসত ঘর,মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে সামছুল হকের বসত ঘর ও পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলামের বসত ঘরও ভাংচুরের সিকার হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় মেম্বার, মুস্তাফিজ। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো,নজরুল ইসলাম পিপিএম জানায়,এই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। তাজুল ইসলাম নামে এক আসামীকে আটক করা হয়েছে।