মো.জাকির হোসেনঃ কুমিল্লার বুড়িচংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধ ভাবে কাঁটা হচ্ছে মাটি। আর এই মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। মাটি পরিবহনে অতিরিক্ত ও ওভার লোড ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের ফলে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। এছাড়া ধূলো-বালিতে ফসলী জমি ও পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় গ্রামের সরু সড়ক গুলি দিয়ে চলছে মাটি ভর্তি ওভার লোডেট ড্রাম ট্রাক। ফসলি জমি থেকে ভেকুর মাধ্যমে কাঁটা মাটি নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ড্রাম ট্রাকগুলি চলার কারনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। রাস্তার পাশে ফসলী জমি গুলির উপরে পরে আছে ধূলো-বালির আস্তরন।

উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শাহ দৌলতপুর এলাকায় ফসলি জমিতে দেখা যায় ভেকু দিয়ে কাঁটা হচ্ছে মাটি। ৪-৫টি ড্রাম ট্রাক বিরোতিহীন ভাবে এই মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। মাটি কাঁটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শাহ দৌলতপুর পশ্চিম খন্দকার বাড়ী মৃত মোসাদ্দেক খন্দকারের ছেরে মোঃ আরিফ এর নেতৃত্বে মধ্যম শাহদৌলতপুর সহ বিভিন্ন এলকায় মাটি কাটা হচ্ছে, জমি থেকে কাটা মাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মিয়ামী হোটেলে কাছে ভরাট করা হচ্ছে।

এছাড়া আরিফের নেতৃত্বে ময়নামতি ইউনিয়নের ডাকলাপাড়া এলাকায় ভেকু দিয়া মাটি কাটা হচ্ছে। মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই, সাদাত জুট মিলের পিছনে, আবিদপুর, গজারিয়া, লাটুয়ারবাজার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি থেকে ড্রেজার ও ভেকু মিয়া মাটি কাঁটা হচ্ছে।
অবাধে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় যেমন কমে আসছে ফসলি জমি, তেমনি মাটি পরিবহনে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। এলাকার কৃষক মফিজ মিয়া জানান, তিনি ১০ শতক জমিতে লাল শাক বুনে ছিলেন, মাটি বহনকারী ট্রাকের বালি পরে সব শাক নষ্ট হয়ে গেছে। যেখানে ১০ শতক জমির লাশ শাক ৫ হাজার টাকা বিক্রয়ের কথা ছিলো সে খানে তিনি ২ হাজার টাকা বিক্রয় করতে পেরেছেন।

কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আমি ১৫ শতক জমিতে আলু ও ১০ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছি, রাস্তার পাশে জমি বিধায় ট্রাকের বালু পরে আমার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি লক্ষমার্তার অর্ধেক ফসল পাবো কিনা এ নিয়ে চিন্তিত আছি।

অটোরিক্সা চালাক কামাল হোসেন বলেন, সরু সড়ক দিয়ে বড়-বড় ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারনে সময়ের পূর্বেই রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। ফলে ওই সড়ক গুলি দিয়ে চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। ভাঙ্গা সড়কে চলাচলের কারনে অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন ছোট গাড়ীর ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত অপরাধ। ফসলি জমিতে ভেকু দিয়া মাটি কাটার বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বার মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। আবারো অভিযান চালানো হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিদা আক্তার বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফসলি জমিতে মাটি কাটা বন্ধের অভিযান পরিচালিত হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: