কুমিল্লার রসমালাইয়ের সুখ্যাতি দেশজুড়ে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় বলে দেশে ব্যাপক চাহিদা রসমালাইয়ের। ব্যবসাও ছিল তুমুল। কিন্তু করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকে রসমালাই ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। বিক্রি কমে গেছে ৬০ শতাংশ।

করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পূর্বে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই টনের মতো রসমালাই বিক্রি হতো কুমিল্লার ২২টি প্রতিষ্ঠানে। যার বাজার দর পাঁচ লাখ টাকার মতো। বছরে ১৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার রসমালাই বিক্রি হতো এসব প্রতিষ্ঠানে। করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর ১২০ দিন রসমালাইয়ের উৎপাদন বন্ধ থাকে কুমিল্লা জেলায়।

এতে লোকসান হয় ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর রসমালাইয়ের উৎপাদন শুরু হলেও বিক্রি কমে গেছে ৬০ ভাগ। আবার কয়েকটি রসমালাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন এখনও শুরু করেনি। এখন প্রতিদিন সাত থেকে আটশ’ কেজি রসমালাই বিক্রি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন পাঁচ লাখ টাকার রসমালাই বিক্রি হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে দুই লাখে।

এদিকে মিষ্টি প্রস্তুতকারী সমিতির বাইরেও জেলার আরো অন্তত ৪০টি প্রতিষ্ঠান রসমালাই উৎপাদন করে। হাইওয়ে সংলগ্ন বড় বড় রেস্টুরেন্টগুলোও রসমালাই তৈরি করে থাকে। করোনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ধস নেমেছে।

কুমিল্লায় ৭০ বছর ধরে রসমালাই বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মিষ্টি ভাণ্ডারের ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, করোনার পূর্বে সারাদেশ থেকে মানুষ এসে এখানে রসমালাই ক্রয় করতো। ভ্রমণে আসা অধিকাংশ পর্যটক কুমিল্লার রসমালাই নিয়ে যেতো। ভারত থেকেও প্রচুর ক্রেতা আসতো রসমালাই নিতে। সাধারণ ছুটি শেষে রসমালাইয়ের উৎপাদন শুরু হলেও পরিস্থিতির কারণে এসব ক্রেতারা আসতে পারছেন না। তাই বিক্রি কমে গেছে ৬০ ভাগ।

কুমিল্লার শীতল ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী প্রবীর ঘোষ জানান, ৯০ বছর ধরে আমরা, ভগবতী পেড়া ভাণ্ডার ও মাতৃ ভাণ্ডার। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান এখানে রসমালাইসহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করছি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে এত খারাপ সময় আর পার করতে হয়নি। তারপরও কোরবানির ঈদের পর থেকে ব্যবসায় কিছুটা গতি এসেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়তে থাকবে।

কুমিল্লা মিষ্টি প্রস্তুতকারক সমিতিরি সভাপতি মামুনুর রশিদ জানান, কুমিল্লার মাতৃভাণ্ডারে বিক্রি ৫০ শতাংশ কমেছে। বাকিগুলোতে বিক্রি কমেছে গড়ে ৬০ ভাগ। কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও উৎপাদন যায়নি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: