বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি আবু তৈয়ব অপি’র সঙ্গে বুড়িচং উপজেলা যুবলীগ নেতার হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে বুড়িচং থানার পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি তদন্ত মাকসুদ আলম। জানা যায়, (১৫ আগস্ট) রবিবার শোক দিবসে সকালে জেলার বুড়িচং উপজেলা শহীদ মিনার সংলগ্নে এ ঘটনাটি ঘটার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বুড়িচং উপজেলা শোক সভাতে আসেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি। তিনি উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষণ পর উপজেলা শহীদ মিনারের কাছে দাড়িয়ে নেতা-কর্মীদের সাথে কথোপকথনের সময় একটু দূর থেকে কয়েকজন ছেলেরা ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলতে শুরু করে।

এসব কথা শুনার পর এমন সময় আবু তৈয়ব অপি তাদেরকে কাছে এনে প্রশ্ন করাকালীন তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় পরিবেশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ঘটনারস্থল বুড়িচং থানার ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর উপজেলার বাইরে দফায় দফায় সংর্ঘষ ও নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে।

উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকা বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের কর্মী জহির (৩২)কে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার সময় গ্রেফতার করে পুলিশ।গ্রেফতারকৃত জহিরের বাড়ি বুড়িচং সদরের ফকির বাড়ির আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। এ ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি’র কাছে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে নারাজ। তবে হাতাহাতির ঘটনাটি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ঘটনার সততার নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার এসআই বিনোদ দস্তগীর প্রতিনিধিকে জানান,শোক দিবসের দিন সাকালে উপজেলা ভিতরে তাদের মাঝে হাতাহাতি ঘটনাটি ঘটে।ওই দিন বড় কোনো ঘটনা ঘটার আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি এবং ঘটনারস্থল তদন্তপূর্বক জড়িত থাকা যুবলীগের কর্মী জহিরকে গ্রেফতার করি।কারণ এমন ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা একটি অপরাধ। এ বিষয়ে বুড়িচং থানার তদন্ত ওসি মাকসুদ জানান, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি আবু তৈয়ব অপি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে ওইদিন শোক দিবসের সকালে ছাত্রলীগ নেতা আল-আমীন ভূইয়া সহ নেতাকর্মীদের হাতে যুবলীগ নেতাকর্মীরা লাঞ্ছিত হয়। এর জের ধরে কিছুক্ষণ পরই উপজেলা সদরে ছাত্রলীগ নেতার কলেজ গেইটের দোকানে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে যুবলীগ নেতার কর্মীসমর্থকরা লুটপাট, হামলা ও ভাংচুর চালায় বলে জানা গেছে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীদের কয়েকজনে মারধরও করা হয়।

এছাড়াও দোকানের মেঝেতে ফেলে পিটিয়ে ছাত্রলীগ নেতা আল আমিনের হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আহত ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন ভূইয়া জানান,তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিলানীর নেতৃত্বে আমার দোকান ভাংচুর এবং আমাকে মারধর করে হাত ভেঙে লুটপাট করে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও বুড়িচং থানার পুলিশ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: