জে.এইচ বাবুঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের বারিপাড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে অটোবাইক চালক হাসান হত্যায় সরাসরি জড়িত দুই আসামী মোঃ তৌছিফ মাহমুদ প্রকাশ নিবিড়(১৯) ও মোঃ রিয়াদ হোসেন রনি (১৯)’কে গ্রেফতার করেছে দেবপুর ফাঁড়ী পুলিশ। শনিবার বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিনের গন্ধমতি ও রামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ আটককৃত উভয় আসামীকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করলে আসামীরা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহীন কাদির জানান, মোকাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মোহন মেম্বারের সাথে ইজি বাইক চালক হাসানের পূর্ব শত্রুতা ছিল। হত্যাকন্ডের বেশ কিছুদিন পূর্বে হাসান মোহন মেম্বারের উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করেছিল। পিতার উপর হামলার প্রতিশোধ নিতে হাসানকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোহন মেম্বারের ছেলে শাহজালাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাতে শাহজালারের বন্ধু জেলার মুরাদনগর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ রবিন (২২), সদর দক্ষিন উপজেলার গন্ধমতি এলাকার জসিম উদ্দিনের পুত্র মোঃ তৌছিফ মাহমুদ প্রকাশ নিবিড় (১৯), সদর দক্ষিন উপজেলার রামপুর এলাকার শাহ আলমের ছেলে মোঃ রিয়াদ হোসেন রনি (১৯), মোহন মেম্বারের বাড়ীতে অবস্থান নেয়।

পরদিন অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর সকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মোহন মেম্বারের মেয়ে শারনি আক্তার, বোন নাছিমা আক্তার গ্যাস সিলিন্ডার আনার কথা বলে হাসানকে মোহন মেম্বারের বাড়ীর সামনে নিয়ে আসে। এসময় মোহন মেম্বারের দুই ছেলে শাহজালাল ও সালাউদ্দিন, মোহন মেম্বার নিজে, পূর্বেই গ্রেফতারকৃত আসামী রবিন, তাঁর বন্ধু শনিবার গ্রেফতারকৃত নিবিড় ও রনি সহ অজ্ঞাতনাম আরো কয়েকজন মিলে হাসানকে এলোপাথারী রড ও স্টিলের রুল দিয়ে পিটাতে থাকে। এক পর্যায়ে হাসান অজ্ঞান হয়ে গেলে মোহন মেম্বারের ছোট ছেলে সালাউদ্দিন চাপাতি দিয়ে হাসানের পায়ে ও শরীরের অন্যান্য জায়গায় কোপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে মোহন মেম্বারের ছেলে শাহজালাল গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে রবিনের বাড়ীতে চলে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসান কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। হাসানের মৃত্যুর খবর শুনে শাহজালাল ওই দিন রাতে রবিনের বাড়ীতে অবস্থান করে। পরদিন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে চলে যায় শাহজালাল।

হাসান হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশ প্রায় দীর্ঘদিন নিরলস চেষ্ঠায় বিভিন্ন টেকনোলজী ব্যবহার করে (১০ মার্চ) রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে রবিন’কে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিন কাদির। ২৪ আগষ্ট বিকেলে দুই আসামী মোঃ তৌছিফ মাহমুদ প্রকাশ নিবিড়(১৯) ও মোঃ রিয়াদ হোসেন রনি (১৯)’কে গ্রেফতারের পর দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ীতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশের নিকট হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নেয়ার ঘটনাটি বলেন। পুলিশ রবিনের স্বীকারোক্তি রেকর্ড পূর্বক গতকাল সোমবার কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রাট ২নং আমলী আদাতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুর রহমান এর নিকট হাজির করে। আসামীরা হত্যায় অংশ নেয়ার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের স্বীকারোক্তি রেকর্ড পূর্বক আসামীদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহীন কাদির জানান, হাসান হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে এগিয়ে মোবাইল টেকনোলজীর মাধ্যমে হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহনকারী আসামীদের আটক করতে সক্ষম হই। হত্যায় জড়িত বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে বলে তিনি জানান।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: