কুমিল্লার গোমতী নদী দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া বন্দরে সিমেন্টবাহী একটি ট্রলার পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে পরীক্ষামূলক এই নৌ চলাচলের উদ্বোধন করা হয়।

তবে গোমতী নদীর নাব্য সংকটে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানির ট্রলারটি সোনামুড়া বন্দরে পৌঁছার আগে কুমিল্লা সদর উপজেলার বিবিরবাজার এলাকায় আটকে যায়। এদিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ট্রলারটি সেখানেই আটকে ছিল। পরে সংকট কাটিয়ে ট্রলারটি দুপুর আড়াইটার দিকে সোনামুড়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়।

জানা গেছ, গোমতী নদীপথে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ভারতের ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া বন্দরে দু’দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হবে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভারতেরও আগ্রহ থাকায় এই নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাউদকান্দি থেকে গোমতী নদী দিয়ে জেলার তিতাস, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং ও কুমিল্লা সদরের বিবিরবাজার হয়ে সোনামুড়ায় হবে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল। এই নৌপথটি প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এতে সড়কপথের চেয়ে পরিবহন খরচও অনেক কম হবে। তবে নৌপথে কম উচ্চতার সেতু থাকায় ছোট জাহাজে করেই পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার দুপুরে বিবিরবাজারে বিআইডব্লিউটি এর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক বেলুন উড়িয়ে পরীক্ষামূলক এই নৌ চলাচলের উদ্বোধন করেন। এ সময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীরসহ প্রশাসনের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নৌ চলাচল উদ্বোধন উপলক্ষে ভারতের সোনামুড়ায়ও এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল শুরু হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

দু’দেশের মধ্যে পরীক্ষামূলক নৌ চলাচল উদ্বোধন উপলক্ষে ভারতের সোনামুড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশকে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রীভা গাঙ্গুলী দাশ সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের মে মাসে ঢাকায় দু’দেশের মধ্যে নতুন দুটি নৌপথের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এগুলো হলো রাজশাহী থেকে ভারতের দুলিহান ও দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরার সোনামুড়া। ওই চুক্তি অনুসারে শনিবার প্রথম চলাচল শুরু করা। সাধারণত দু’দেশের মধ্যে আগে ট্রাকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হতো। এই নৌপথ চালুর ফলে দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ ছাড়া এই নৌপথের নাব্য সংকটসহ আরও যেসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন নদীতে ভালোই পানি রয়েছে। সারা বছর নদীপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে হলে পুরো নদীকে অবশ্যই খননের আওতায় আনতে হবে। ইতোমধ্যে নদীটি খননে বিআইডব্লিউটিএ একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: