ডেস্ক রিপোর্টঃ ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে অনাকাঙ্খিত এসব দুর্ঘটনা। মৃত্যুর মিছিলে চিরদিনের জন্য পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিচ্ছেন দুর্ঘটনাকবলিত অনেকে। অনেকে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।

বেপরোয়া গতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কোনো গাড়ি মহাসড়কের ওপরেই আছড়ে পড়েছে, কোনোটি মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়েছে। কোনটি আবার উড়ন্ত অবস্থায় মহাসড়ক থেকে ২০-৫০ গজ দূরত্বে নিচের ডোবায় গিয়ে পড়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ ছিল মেঘনা-গোমতি দুই সেতু। গত ২৫ মে নবনির্মিত সেতু দুইটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে যেমন গতি সঞ্চার হয়েছে জনজীবনে, অপরদিকে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচলের ফলে দুর্ঘটনাও বেড়েছে।

>>আরো পড়ুনঃ  ১৮২ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়ানো কুমিল্লা জিলা স্কুল

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৫ মে থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত এক মাসের ব্যবধানে মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলা ও এর আশপাশের এলাকায় দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ছোট বড় প্রায় ১৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানি ঘটেছে অন্তত ১৫ জনের। এসব মৃত্যুর চান্দিনা অংশ ছয়জন, দাউদকান্দি অংশে তিনজন, চৌদ্দগ্রাম অংশে তিনজন এবং বুড়িচং অংশে তিনজন।

১৪টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৬ জুলাই মহাসড়কের চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী কোরপাই মিলগেইট এলাকায় বেপরোয়া বাসচাপায় এক পথচারী নিহত হন। ২৭ জুন মহাসড়কের দাউকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ-টামটা এলাকায় কুমিল্লাগামী রয়েল কোচের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়ক থেকে ছিটকে অন্তত ৫০ গজ দূরত্বের একটি বড় ডোবায় পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় তিনজন। ২৪ জুন চান্দিনার কাঠেরপুলে বেপরোয়া বাসচাপায় এক ট্রাক্টর চালক নিহত হন।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লায় জন্ম নিবন্ধন নিয়ে সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ

১২ জুন চান্দিনার হাড়িখোলা এলাকায় পুলিশ বহনকারী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় নিয়ন্ত্রণহীন এক কাভার্ডভ্যান। এতে আট পুলিশ সদস্য আহত হন। ১৪ জুন নূরীতলা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসকে অপর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে একটি বাস আশা জুট মিলের গেইট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ২০ জন আহত হয়। ৪ জুন নূরীতলা এলাকায় একটি বাস যাত্রীবাহী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পরে যায়। এতে অন্তত ৩০ যাত্রী আহত হয়।

এদিকে, প্রায় প্রতিদিনই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ দুর্ঘটনাই হাইওয়ে পুলিশের অজানা। দুর্ঘটনার পর নিহতের ঘটনাগুলো পুলিশের ডায়েরিতে আসলেও দুর্ঘটনায় আহতদের ঘটনার কোনো হিসেব নেই পুলিশের খাতায়। এ ছাড়া দ্রুতগামী গাড়িচাপায় নিহতদের ঘটনা অধিকাংশ সময় পুলিশ আসার আগেই স্থানীয়রা সরিয়ে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে সে হিসাবও আসেনা পুলিশের ডায়েরিতে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা নগরী পানিবন্দি, জনদুর্ভোগ চরমে

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ অপু বলেন, গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আধুনিক স্পিড ডিটেক্টর গানে আমাদের টিম মহাসড়কে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গতি নিয়ন্ত্রণে গাড়ি চালকরা আন্তরিক না হলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ