কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউপির বালিপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে ওই গ্রামে।নিহতের বাপের বাড়ী পেরিয়া ইউপির চান্দপুর চতলীয়া গ্রামে। তিনি এক সন্তানের জননী ও বাহারাইন প্রবাসী ইউনুসের স্ত্রী মাজেদা বেগম (২৪)।

এ বিষয়ে নিহতের মা,হাজেরা বেগম ও বাবা শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন- গত সোমবার রাতে তার মেয়েকে চাচাতো দেবর হামিদ চাচাতো ভাসুর রশিদ, চাচাতো শাশুড়ি মমতাজ বেগম, ননদী নুরুল নাহার ও পাশ্ববর্তী বাড়ীর খোরশেদ আলমের ছেলে বোরহান উদ্দিন গংরা হত্যা করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে হামিদ ও রশিদ তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে তিনি রাজী না হওয়ায় তাকে হত্যা করেছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন – হত্যার খবর বিভিন্ন মাধ্যম জানার পর ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে হত্যা মামলা না নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা নিয়ে লাশটি ময়নাতদন্ত করে নিহতের পিতার কাছে হস্তান্তর করেন।

নিহতের ছোট ছেলে মাহফুজ (৬) বলেন- তার মাকে কয়েকজন মিয়ে খুন করছে।

নিহতের মামা মাও: সাইফুল ইসলাম বলেন- মঙ্গলবার সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটের সময় নিহত ভাগিনীর স্বামীর বাড়ী থেকে একটি ফোন আসে। তখন তাকে জানানো হয় ভাগনী মারা গেছে। সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, তাদের বাড়ীর লোকজন পলাতক রযেছে। পুলিশ লাশটিকে থানায় নেয়ার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছেন। পুলিশকে লাশ দেখার জন্য বলার পর তারা ভাগনীর লাশটি দেখায়। পুলিশ লাশের সাথে তাকেও থানায় নিয়ে যায়। থানায় আসার পর পুলিশ তাদেরকে বলেন- মাজেদা আত্মহত্যা করেছে। তখন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার কথা বলা হয়। পুলিশ হত্যাকে আত্মহত্যা বলে মামলা নেয়নি বলে তারা দাবী করেন।

বুধবার সরেজমিন গিয়ে অভিযুক্তদেরকে পাওয়া যায়নি। তবে নিহতের শাশুড়ি বলেন- তার পুত্র বধু আত্মহত্যা করেছে। ঘরের ভুতুড়ের সাথে উড়না দিয়ে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ পরিদর্শক ( এসআই) ওবায়েদুল হক বলেন- সংবাদ পাওয়ার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর কারন জানা যাবে । থানায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: