কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সদরের হাজী মোঃ আবদুল খালেকের ছেলে ফ্রান্স প্রবাসী মোঃ তাওসীফ আহমেদ জীবন এর ব্যাক্তিগত উদ্যোগে প্রতি রাত প্রায় ৪০০-৫০০ অসহায় গরিবদুঃখীর মাঝে সেহরী বিতরণ করা হয়।

তাওসীফ আহমেদ জীবন বলেন করোনার প্রাদুর্ভাবে হোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকার কারনে অনেক অসহায় মানুষের সেহরী খাওয়া হয় না।এবং অনেকের আয় রোজগার বন্ধ করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে। তাই রমজান মাসের উপলক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন হাট বাজার , স্কুল, মাদ্রাসার নাইট গার্ড, ও অনেক অসহায় মানুষের জন্য নিজ হাতে রান্না করে নিজেই খাবার বিতরণ করি। করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের পাশে থেকে সাহায্য করাটাই মূল উদ্দেশ্য।

মোঃ তাওসীফ আহমেদ জীবন ২০১৬ সালে “মা-বাবা ফাউন্ডেশন” নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। যার মূল স্লোগান “মানুষ মানুষের জন্য -সেবাই ধর্ম ” তাওসীফ আহমেদ জীবন বলেন মা- বাবার উৎসাহ ও উদ্দীপনায় আমি নিজেকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করতে চাই।প্রতি রাতে খাবার রান্না করে পরিবারে সকল সদস্যদের নিয়ে খাবার প্যাকেট করে রাত ২ টা থেকে নিজেই গাড়ি দিয়ে বুড়িচং থেকে শুরু করে কুমিল্লা জেলার সদর ও সদর দক্ষিণ এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে সেহরী বিতরণ করি। তিনি ২০১৬ সাল থেকে চারটি হাফিজিয়া এতিম খানার খরচ বহন করে আসছেন।

তার বাবা হাজী মোঃ আব্দুল খালেক বলেন গত ৪১ বছর ধরে বি-বাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জেটুয়ামোড়া গ্রাম থেকে চাকুরীর করার কারণে বুড়িচং বসবাস করে আসছি ।বুড়িচং বাসীর সাথে মনের মিল হয়ে যাওয়া চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার পর আর নিজের এলাকায় যাইনি। বুড়িচংয়ে জায়গায় জমি ক্রয় করে এখানে স্হায়ী বাসিন্দা হয়েছি।

তার ধর্মীয় গুরু কাজী আমজাদ হোসেন নুরী বলেন-তাওসীফ আহমেদ জীবন সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তার কাজে উৎসাহ প্রদান করে আসছি এবং তার জন্য দোয়া করি-সে যেন মানুষের কল্যাণে আগামী দিনগুলোতে আরো অবদান রাখতে পারে।সমাজ সেবক মোঃ সাইফুল ইসলাম রমজান বলেন, আমার প্রতিবেশী তাওসীফ আহমেদ জীবন ক্ষুর্ধাত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সমাজের অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি রয়েছে যারা এই ধরণে উদ্যোগ নিতে সাহস করেনি। কিন্তু তাওসীফ রোজদার মানুষের সেহরীর ব্যবস্থা করেছে।

তাওসীফ আহমেদ জীবন বলেন পুরো রমজান মাসে তার এ সেহরী বিতরণ অব্যাহত থাকবে। কোনো অর্থ নয় সকলের দোয়া কামনা করেন তাওসীফ আহমেদ। তার এ মহৎ কাজকে সমাজের সকল পর্যায়ের লোকজন সাধুবাদ জানায়।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: