কুমিল্লা আদালতে ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, দুই কর্মচারীকে শোকজ

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দুই কর্মচারীর ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আদালতপাড়াসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

অভিযুক্তরা হলেন আদালতের পেশকার রবিউল্লাহ ও অফিস সহায়ক ফারুক হোসেন। আদালত সূত্র জানায়, ভিডিওটি নজরে আসার পর তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তবে রবিবার দুপুর পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, আদালতের একটি কক্ষে অফিস সহায়ক ফারুক হোসেন মামলার নথি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় এক আইনজীবী মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে তাকে দেন। পরে ফারুক আইনজীবীর হাতে একটি নীল কাগজ তুলে দেন।

একই ভিডিওতে আরও দেখা যায়, আদালতের এজলাসের পাশে নিজ আসনে বসে আছেন পেশকার রবিউল্লাহ। এ সময় আরেক আইনজীবী তাকে টাকা দেন। প্রথম দফায় টাকা নেওয়ার পর তিনি কিছু বললে আইনজীবী আবারও টাকা দেন। পরে রবিউল্লাহ টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি কাগজের নিচে টাকা রেখে দেন। আদালত সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই আদালতে কর্মরত থেকে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আইনজীবী জানান, অভিযুক্ত দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আগেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সেই অভিযোগগুলো এখন প্রকাশ্যে এসেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে পেশকার রবিউল্লাহ বলেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই। তবে কে বা কারা ভিডিওটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা তিনি জানেন না। আদালত থেকে শোকজ করার পর তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন বলেও জানান।

অন্যদিকে অফিস সহায়ক ফারুক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক রিংকু বলেন, ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। যেহেতু তারা জেলা জজ আদালতের কর্মচারী, তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতের।

এদিকে আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে এবং তারা লিখিত জবাব দিয়েছেন। পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরো পড়ুন