কুমিল্লায় আরও এক শিশুর মৃত্যু, বয়স্করাও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে

কুমিল্লায় হাম আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর প্রাণ গেছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘হাম আইসোলেশন’ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

যদিও ১৭ এপ্রিল শিশুটির মৃত্যু হয়; তবে ১৯ এপ্রিল জেলা সিভিল সার্জনের সর্বশেষ তথ্যে বিষয়টি জানানো হয়। ওই তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মারা যাওয়া আট মাস বয়সী শিশু হোসাইন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভেলাচর এলাকার শাহ পরানের ছেলে।

এদিকে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. হেলালুর রহমান।

তিনি বলেন, “চলতি মাসের ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মেডিসিন ওয়ার্ডে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ১৭ জন এখনও চিকিৎসাধীন।

“এছাড়া ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যেও হাম উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। সবশেষ ১৭ এপ্রিল পাঁচজন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, তবে তাদের কারোর অবস্থা গুরুতর নয়।”

চলতি বছরে হাম সংক্রমণের হার ও উপসর্গ কিছুটা ‘অস্বাভাবিক’ বলেও জানান ডা. হেলালুর।

সংক্রামক ব্যাধি হাম থেকে বাঁচতে আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন এ চিকিৎসক।

এদিকে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, “গত ১৪ এপ্রিল রাতে হাম-রুবেলার উপসর্গ অতিমাত্রায় জ্বর, কাশি এবং শরীরে প্রচন্ড র‍্যাশ নিয়ে শিশু হোসাইনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে সে মারা যায়।”

হোসাইনসহ কুমিল্লা জেলায় এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে দুজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিরা কুমিল্লায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে জানান তিনি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত ১০৬ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আরো পড়ুন