ডেস্ক রিপোর্টঃ আবারো কুমিল্লায় কিশোরদের গ্যাংবাজির শিকার হলো এক স্কুল ছাত্র। কুমিল্লাতে কিশোর মুখগুলো ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে তারা। এরা নিজেদের কিশোর গ্যাং বলেই ভাবতে চায়।

ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটছে খুনের ঘটনা। এমন কি পান থেকে চুন খসলে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। কিশোর এসব অপরাধীর হাতে অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে কুমিল্লায় একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে।

এইতো, গতকাল ১৩ মে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নগরীর মোগলটুলীর এলাকার কর্ণফুলি পেপার মিল দোকানের সামনে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় কিশোর আদিলকে। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আদিলের মৃত্যু হয় ।

নিহত আদিল কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা। থানীয় সূত্র জানায়, নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠা কিশোর গ্যাং গ্রুপ “ ঈগল” গ্রুপের কিশোররা এ হত্যাকান্ড করেছে।

গত ২১ এপ্রিল শবে বরাতের রাতে নগরীতে কিশোর সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুমতাহিন হাসান মিরণ নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. আমিন ও সৌরভ হোসেন পল্টু নামে দুজনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা টমছম ব্রিজ-কোটবাড়ি বিশ্বরোড সড়কের বেহাল দশা

গত ২১ এপ্রিল বিকালে নগরীর নুরপুর এলাকায় দুই কিশোর ছাত্রের ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে ২৩ এপ্রিল মারা যায় অটোরিকশা চালক শাহজাহান। অভিযোগ রয়েছে- ভাড়া নিয়ে বাগবিত-ার জের ধরে স্কুল ছাত্র ইরফান, হূদয় ও তার সঙ্গীয়রা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা শাহজাহানকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় দুই দিন পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুলের এক ছাত্রের ছুরিকাঘাতে আহত হয় কুমিল্লা জিলা স্কুলের ছাত্র মারুফ। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। এ ঘটনায় দুটি স্কুল কর্তৃপক্ষই কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত করছে।

গত ১০ মার্চ নগরীর দিশাবন্দ এলাকায় ক্রিকেট খেলায় তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সাজ্জাতুল ইসলাম (১৬) নামে এক তরুণকে নগরীর চর্থা এলাকার ইউসুফ নামের এক কিশোর স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহত সাজ্জাতুল নেওড়া হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ও দিশাবন্দ গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১১ জুলাই রাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কুমিল্লা অজিতগুহ কলেজের ছাত্র অন্তুকে (১৮) নগরীর ধর্মসাগর পাড়ে খুন করে তার সহপাঠীরা। প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সে কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকার হুমায়ূন কবিরের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লায় জন্ম নিবন্ধন নিয়ে সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ

২০১৭ সালের ২৭ মে সন্ধ্যায় নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকায় ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহজাদা ইসলামকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং। এ ঘটনায় ২৯ মে নিহত শাহজাদার বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে স্কুলছাত্র শাফায়েত উল্লাহ শৈকতকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। আসামিদের সকলেই স্কুল ছাত্র। ঘটনার পর দিন মডার্ন স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র অর্পণ আশ্চার্য দীপসহ কয়েকজন স্কুল ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়।

আর স্কুল-কলেজের ছুটির সময়ও এদের উৎপাতে অস্থির হয়ে ওঠেন সেখানে আগত অভিভাবকরা। পাশাপাশি রাস্তাঘাট এমনকি নিরিবিলি পরিবেশকে তারা মুহূর্তে অশান্ত করে তোলে।

কুমিল্লা নগরীতে স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রদের অধিকাংশই একাধিক গ্রুপ গঠন করে পাড়া-মহল্লায় মাস্তানিতে জড়িয়ে পড়েছে। এসব গ্রুপের নামেরও নানা বাহার। র‌্যাক্স, এক্স, এলআর এন, সিএমএইচ, মডার্ণ, ঈগল, রকস্টার, ডিস্কো বয়েজ ও বস ইত্যাদি। এসব গ্রুপের আবার গ্যাং লিডারও রয়েছে। অধিকাংশই ফেসবুক, ইন্টারনেটে আসক্ত। নেশার মধ্যে ধূমপানেই বেশি আসক্ত।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লায় টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন অপরাধ মানেই কিশোরমুখ। সেটা হত্যা হোক, অপহরণ হোক কিংবা মাদকপাচার। এ কারণে সতর্ক এবং উদ্যোগী হতে হবে এখনই। নইলে আপনার আশপাশে যে কিশোররা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা কি আপনাকে হত্যা বা অপহরণ করতে ওতপেতে আছে কে বলবে তা। জানা গেছে, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংগুলো ফের পুরোদমে সক্রিয়। এই গ্যাং এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বেপরোয়া কাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। চায়ের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের সড়ক এমনকি বিভিন্ন শপিং মলের আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক দলের সদস্য ঘোরাঘুরি করে। চায়ের দোকানগুলোয় সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আড্ডায় মেতে থাকে।

স্কুল, কলেজ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের সম্পর্কও সব সময় ভালো থাকে না। এসব শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে পরিবারের প্রশ্রয় পেয়ে দিন দিন বিপদগামী ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠে। কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুল, জিলা স্কুল, কালেক্টরেট স্কুল ও হাইস্কুলসহ নগরীর আরও কিছু স্কুলের অধিকাংশ ছাত্র গ্যাং কালচারে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ