মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতাঃ ‘আমার কপাল পোড়া, বুড়া বয়সে খয়রাত কইরা খাই। কেউ আমারে একটা বয়স্ক ভাতাও দেয়না। আর কত বয়স অইলে বয়স্ক ভাতা পামু, আরতো চলতে পারি না, চোহে দেহি না, এ্যাক বেলা খাই আর দুই বেলা না খাইয়্যা থাহি, আমি বাইচ্যা আছি না মইরা গেছি কেউ খোঁজ নেয় না। ম্যাইয়্যা জামাই নিয়া থাহে, আমি অন্যোর ভাইতে থাহি। মেম্বারের কাছে গেছি হে আমারে কিছুই কয় না। সরকার এ্যাতো কিচু দেয়, আমি কিচু পাই না। আর কয়দিন পরতো মইরে যামু। আপনারাই কন আর কত বয়স অইলে সরকারের দেওয়া বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড অইবো। কান্না জড়িত কন্ঠে এ কথাগুলো বললেন ৮১ বছর বয়সি বিধবা কাপ্তানের নেছা।

তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মৃত্যু কেরামত আলীর স্ত্রী কাপ্তানের নেছা(৮১)।

সম্প্রতি ঐ এলাকায় গেলে দেখা হয় কাপ্তানের নেছার সাঙ্গে। কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলাম, তখন বুঝতে পারলাম বয়স বাড়ার সাথে সাথে শ্রবন শক্তিও কমে গেছে তার। উচ্চস্বরে কথা না বললে বোঝতে পারেন না তিনি। পড়নে একটি পুরনো কাপড় তাও বেশ কয়েক যায়গায় ছেড়া।

জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে স্বামী কেরামত আলীর মৃত্যু হয়। ছেলে নেই, একটি মেয়ে আছে তার বিয়ে হয়ে গেছে। বিধবা কাপ্তানের নেছার ভিটেমাটি বলতে কিছু নেই, রাতে থাকেন একটি রান্না ঘরে। এটিও অন্যের রান্না ঘরে। হতদরিদ্র এ বৃদ্ধা রাত পোহালে খাবারের সন্ধানে হাটতে থাকে এবাড়ী থেকে ওবাড়ী। কেউ খাবার দিলে খায়। না দিলে থাকেন উপোষ। এভাবেই মাণবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। সরকারি ভাতার আশায় স্থানীয় মেম্বার মনির হোসেন মোল্লার কাছে এক বছর আগে আইডি কার্ড জমা দিয়েছেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ভাতার আশায় মেম্বারের বাড়িতে প্রায়ই যান তিনি। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না এই অসহায় মানুষটি। ৮১ বছর বয়স হলেও এখন পর্যন্ত তার কপালে জুটেনি বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন মোল্লা বলেন, আমার কাছে বৃদ্ধার আইডি কার্ডটি আছে আমি চেষ্টা করছি তাকে ভাতার ব্যাবস্থা করে দেওয়ার।

এব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কবির আহম্মেদ বলেন, ইউনিয়ন কমিটি এই বিষয়টি আমার নজরে না আনার ফলে এতো দিন তার ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। মহিলার আইডি র্কাড জমা নিয়ে দ্রুত ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার মিতু মরিয়ম, বিষয়টি আমার জানা নেই। যত তাড়াতারি সম্ভব তাকে সরকারি ভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।